শওকত চেয়ারম্যান আমার দোলাভাই, আমার শিক্ষক, আমাদের পরিবারের অবিভাবক। আমার বড় বোনের সাথে উনার বিবাহ হয় ১৯৭৯ সালে। সেই হিসাবে তার সাথে আমাদের পরিবারের পথচলা প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে। বিগত ৩৫ বছর ধরে আমি তাকে চিনি৷ সেই ছোট্ট কাল থেকে বাড়ী থেকে চাল,ডাল,নারিকেল বয়ে নিয়ে যেতাম বোনের বাড়ী৷ আজকে #শওকত চেয়ারম্যান কে সারা সাতক্ষীরার জেলার লোক চেনে। তার সততা আর আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা আজকে তাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। কিন্তু আমার পিতা যখন তার হাতে তার কলিজার টুকরা প্রথম সন্তান কে তুলে দিয়েছিল তখন দোলা ভাইয়ের না ছিল একটা ঘর, না ছিল চাকুরী, না ছিল অর্থবিত্ত? শুধু আমার নানা #মরহুম মাস্টার ইয়াসিন আলীর ও দাদা মাস্টার আফিল উদ্দিনের পরামর্শে সৎ ছেলে,শিক্ষিত ছেলে হিসেবে বোন কে তুলে দেওয়া।
শওকত চেয়ারম্যান কে নিয়ে আজ অনেক লেখা, লেখা যাবে, অনেক কথা বলা যাবে কিন্ত মোটা দাগে আমার কাছে যে বিষয় গুলো অন্যদের থেকে দোলা ভাই কে আলাদা মনে হয়েছে তা হলো-
১। তার সততা সত্যি অকল্পনীয়। অর্থ, ধন সম্পাদের মোহ কখনো তাকে স্পর্শ করতে পারিনি। দীর্ঘ ১৮ বছর একটানা চেয়ারম্যানি করছে কিন্তু পকেটে কখনো একটা টাকা তুলিনি৷ অভাব তার পিছু ছাড়িনি। সংগঠনের দেওয়া বাই সাইকেল চড়ে দীর্ঘ ৩ পিরিয়ড চেয়ারম্যানি করছেন৷
২। মসজিদে সাথে ছিল তার আলাদা সম্পর্ক। আজীবন দেখেছি সবসময় মসজিদে পড়ে থাকতো। লোকজন এসে তাকে বাড়ী না পেলেও মসজিদে তাকে পাওয়া যেত৷ কতটা মসজিদ পাগল গতদিন স্ট্রোক করছে তাই মসজিদে যেতে পারিনি সাথে সাথে মুসল্লীদের সন্দেহ হয়েছে উনি মসজিদে আসলো না কেন?
৩। নামাজের প্রতি তার আলাদা আকর্ষণ। কখনো নফল নামাজ ও ছাড়ে না। সারাদিন কত প্রকার নামাজ পড়ে আমরা যারা কাছ থেকে দেখেছি তারাই জানি৷ এই নামাজ নিয়ে আমরা পরিবারের লোকজনও অনেক বিরক্ত বোধ করেছি তবুও উনার নফল নামাজ, নফল রোজা এগুলো চুল পরিমান ছাড় দিতে দেখিনি।
৪। উনি খুব আবেগী। মোনাজাত ধরলে ছাড়তে চাই না সাথে কান্না তো আছে। কেউ মারা গেলে এমন কান্নাকাটি করে মনে হয় উনার আপন কেউ মারা গিয়েছে। পরের জন্য এমন কান্না আর কাওকে আমি করতে দেখিনি।
৫। সংগঠনের প্রতি অন্ধ ভালোবাসা৷ জীবনে সংগঠন ছাড়া কিছু বুঝিনি। জীবনে এত অভাব গেছে তবুও সংগঠনের সময় দিতে পারবে না বলে প্রাইভেট পড়াতো না। অথচ উনার মতন ইংরেজি জানা লোক আমাদের কলারোয়াতে খুব কম ই আছে।
৬। মানুষ কে আপন করার মতন এক অন্যান্য গুন তার৷ কেউ তাকে আগে সালাম দিতে পারছে আমার জানা নেই৷ স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের আব্বা মা বলে ডাকবে। ইউনিয়নের সব লোক ই যেন উনার চেনা৷ ছোটদের উনি আব্বা আম্মা, বাপ ইত্যাদি বলে সম্বোধন করে।
৭। ধনী গরিব, বর্ণগোত্র কোন ভেদাভেদ নেই উনার কাছে। ঋষি সম্প্রদায় কে আমরা খুব অবহেলা করি তাদের সাথে মিশলে জাত যাবে এই ভয়ে তাদের ধারের কাছে যায় না অথচ উনাকে দেখছি কিভাবে উনি ঋষি সম্প্রদায় লোকদের সাথে কোলাকুলি মেশামিশি করেন৷ হিন্দু দাদা কাকারা উনার পাগল৷ উনিও তাদের করে পাগল।
সততা,আমানত দারিতা, ন্যায়পরনয়তা ইত্যাদি আজকে তাকে একজন শওকত চেয়ারম্যান করে তুলেছে। এই যুগে একজন মেম্বার হতে যখন ১০-১৫ লক্ষ টাকা খরচ হয় সেখানে উনি ৩ পিরিয়ড চেয়ারম্যান ইলেকশন করে মোট খরচ করছে ১ হাজার টাকার ও কম। হয়তোবা এই কথাটা শুনে অনেকে বিশ্বাস করবে না কিন্তু কলারোয়ার মানুষ সাক্ষী উনার এই খরচের কথা।।
যাই হোক অনেক লম্বা লেখা লিখে ফেললাম৷ গত ২ দিনে উনার প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা দেখেছি, মানুষের যে কান্না দেখেছি ইনশাআল্লাহ এই অশ্রু বৃথা যাবে না। সকলের দোয়া ও ভালোবাসায় আবার উনি আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন ইনশাআল্লাহ।