আশাশুনি প্রতিনিধি:
আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের গোরালি গ্রামে এক যুগ আগের সাজানো সংসার ফেলে গচ্ছিত স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ নিয়ে এক গৃহবধূ পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত রবিবার (২ আগস্ট) সকালে নিজ গৃহ থেকে নগদ টাকা ও সোনার গয়না নিয়ে উধাও হন সুমাইয়া ইয়াসমীন নামের ওই গৃহবধূ। ভুক্তভোগী স্বামী আল-আমিনের দাবি, পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে তাঁর স্ত্রী ঘরে রাখা এসব মালামাল হাতিয়ে চম্পট দিয়েছেন।
প্রায় ১২ বছর আগে আনুলিয়া ইউনিয়নের গোরালি গ্রামের বাসিন্দা ছহিল উদ্দীন মিস্ত্রীর ছেলে আল-আমিনের সঙ্গে প্রতাপনগর ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামের মাসুদুর রহমান কারিকারের মেয়ে সুমাইয়া ইয়াসমীনের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাঁদের ৯ বছর বয়সী একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। স্বামীর অভিযোগ, তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত। এর আগেও তিনি স্হানীয় অবিবাহিত এক যুবকের সঙ্গে রংপুরে চলে গিয়েছিলেন। পরে পারিবারিক ও সামাজিক মধ্যস্থতায় তাঁকে ঘরে ফিরিয়ে আনা হয়।
আল-আমিনের ভাষ্য, তিনি পেশাগত কাজে বাইরে যাওয়ার সুযোগে ঘরে রক্ষিত নগদ ৩ লাখ টাকা এবং ১ ভরি ওজনের ৩টি সোনার চেইন, ৮ আনার ২টি রুলি, ৪ আনার কানের দুল ও ৫ রতির ১টি নাকফুলসহ সর্বমোট সাড়ে ৫ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে সুমাইয়া বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। কাজ শেষে আল-আমিন বাসায় ফিরে স্ত্রী ও মালামাল না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। স্বজনদের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরবর্তী সময়ে মুঠোফোনে স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সুমাইয়া জানান, তিনি বর্তমানে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন এবং আর সংসার করবেন না। একই সঙ্গে তিনি বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করেন এবং ডাকযোগে ইতোমধ্যেই তালাকনামা পাঠিয়ে দিয়েছেন বলেও জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সুমাইয়া বলেন আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটি সত্য নয় "স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে ঘর ছেড়েছি। অর্থ-অলঙ্কার নেওয়ার দাবি মিথ্যা।"