এস,এম মোস্তাফিজুর রহমান,আশাশুনি।
আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের মহিষকুড় মৎস্য সেট সংলগ্ন বাঁশতলা-মহিষকুড় সংযোগ সড়কের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও ভাঙাচোরা রাস্তার সংস্কার কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় এ সংস্কার কাজের উদ্বোধন করা হয়।
সংস্কার কাজের উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা জেলা তাঁতীদলের সভাপতি,শ্রীউলা ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হাসান শাহরিয়ার রিপন,শ্রীউলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো.রফিকুজ্জামান ছোট্টু,আশাশুনি সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো.জাকির হোসেন প্রিন্স,বিএনপি নেতা মো.আবুল কালাম মোল্লাসহ স্থানীয় বিএনপি,অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয়রা জানান,সাতক্ষীরা-শ্যামনগর সড়কের চার লেনের কাজ চলমান থাকায় শ্যামনগর ও কালীগঞ্জ উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ বিকল্প পথ হিসেবে বাঁশতলা হয়ে মহিষকুড় এবং সেখান থেকে সাতক্ষীরা- কোলাঘোলা সড়ক দিয়ে সাতক্ষীরা,খুলনা,যশোরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করছেন। প্রতিদিন এ সংযোগ সড়ক দিয়ে হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। অতিরিক্ত মালামাল বহনকারী ট্রাক ও পিকআপ চলাচলের কারণে সড়কটির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি সড়কের দুই পাশে পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে সড়কের ক্ষতি আরও বাড়ছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ সংযোগ সড়কের বিভিন্ন অংশ দ্রুত ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা আরও জানান,মহিষকুড় গ্রামের আবুল কালাম মোল্লার বাড়ির সামনে সড়কের ভাঙাচোরা অংশটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন এলাকাবাসী। এর আগে আবুল কালাম মোল্লার উদ্যোগে স্থানীয়দের সহযোগিতায় নিজেদের অর্থায়নে সংস্কার করা হলেও জলাবদ্ধতা ও অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।
গত কয়েক মাস ধরে সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহন চালক ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। প্রায় এক মাস আগে আবুল কালাম মোল্লা এবং বিএনপি নেতৃবৃন্দ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন। পরে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এলজিইডির জেলা পর্যায়ের প্রকৌশলীদের উদ্যোগে দ্রুত সংস্কার কাজের ব্যবস্থা করা হয়।
উদ্বোধনকালে বক্তারা সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় এলজিইডির সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। বক্তারা বলেন,সাময়িক সংস্কারের পাশাপাশি সড়কটি দ্রুত স্থায়ীভাবে নির্মাণ করতে হবে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসনে সড়কের দুই পাশে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সড়কের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ওভারলোড যানবাহন চলাচল বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা,সংস্কার কাজের পাশাপাশি স্থায়ীভাবে সড়ক উন্নয়ন ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন কয়েক হাজার মানুষ।