কলারোয়া প্রতিদিন নিউজ ডেস্ক :
সাতক্ষীরার পারিবারিক আদালতের এজলাসে হাজির করা হয় সাত বছর বয়সী এক অসুস্থ শিশুকে। শিশুটির ডান হাতের তুলনায় বাঁ হাত অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া ও কালচে বর্ণ ধারণ করায় বিচারক নিজেই শিশুটিকে ডায়াসে ডেকে তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। পরে রায়ে শিশুটির অস্ত্রোপচারের সম্পূর্ণ ব্যয়, বকেয়া ও নিয়মিত ভরণপোষণ এবং দেনমোহর পরিশোধের জন্য বাবাকে নির্দেশ দেন।
সাতক্ষীরা পারিবারিক আদালত-২-এর বিচারক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জ্যেষ্ঠ সিভিল জজ মো. হাসানুল বান্না সম্প্রতি এ রায় প্রদান করেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি শিশুটির বাবা-মায়ের বিয়ে হয়। ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। বর্তমানে শিশুটি তার মায়ের সঙ্গে দেবহাটা উপজেলায় বসবাস করছে। শিশুটির বাবা কালীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এবং ঢাকায় একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।
চিকিৎসা নথি অনুযায়ী, শিশুটি ভাস্কুলার ম্যালফরমেশন রোগে আক্রান্ত। এ রোগের কারণে তার বাঁ হাতে স্বাভাবিক রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় হাতটি অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায় এবং কালচে বর্ণ ধারণ করে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজন প্রায় ২ লাখ ৫১ হাজার টাকা।
শিশুটির মা গত বছরের মার্চ মাসে দেনমোহর, ভরণপোষণ এবং সন্তানের চিকিৎসা ব্যয় চেয়ে আদালতে মামলা করেন। মামলার শুনানিকালে বাদীপক্ষের আবেদনের পর শিশুটিকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তার শারীরিক অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ফেরদৌস হোসেন জানান, আদালতের কাছে আবেদন করার পর বিচারক শিশুটিকে ডায়াসে ডেকে তার অসুস্থ হাত পর্যবেক্ষণ করেন। পরবর্তীতে প্রদত্ত রায়ে শিশুটির চিকিৎসার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
রায়ে শিশুটির অস্ত্রোপচারের জন্য ২ লাখ ৫১ হাজার টাকা, ১৩ মাসের বকেয়া ভরণপোষণ বাবদ ৩৯ হাজার টাকা এবং ভবিষ্যতে শিশুর পড়াশোনা ও চিকিৎসার জন্য প্রতি মাসে ৮ হাজার টাকা করে ভরণপোষণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিশুটির মায়ের ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দেনমোহর পরিশোধেরও আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় অন্তর্র্বতীকালীন আদেশে শিশুটির জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা ভরণপোষণ নির্ধারণ করেছিলেন আদালত।
এ বিষয়ে শিশুটির বাবার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে তার ছোট ভাই জানান, আদালতের রায়ের বিষয়ে তারা অবগত এবং আদালতের নির্দেশনা প্রতিপালনের বিষয়ে তাদের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে।
আইনজীবী মহলের মতে, শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ ও পিতার আইনগত দায়িত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে।
(পত্রদূত)