মোঃ আরিফুল ইসলাম
কার্তিকের শুরুতেই প্রকৃতির রূপবদলের ঘণ্টা বেজে উঠেছে। ভোরের নরম রোদ, মেঠো পথের ঘাসে জমানো শিশিরবিন্দু আর ভোরে গা ছমছম করা ঠান্ডা জানান দিচ্ছে—দরজায় কড়া নাড়ছে শীত। দেশের উত্তরাঞ্চলের পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলাসহ বিভিন্ন প্রান্তের গ্রামীণ এলাকায় বইতে শুরু করেছে উত্তুরে হিমেল হাওয়া। শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে চরাঞ্চল, খেতখামার ও মেঠো পথ।
কলারোয়ার মাঠে মাঠে শীতের আমেজ ও মেঠো পথ
বিশেষ করে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার গ্রামগুলোতে এখন ভোরের আলো ফুটতেই দেখা মিলছে কুয়াশাঘেরা অপরূপ রূপ। কলারোয়ার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ, ধানখেত আর মেঠো পথের ধারের ঘাসে মুক্তোদানার মতো জমে থাকা শিশিরবিন্দু নজর কাড়ছে সবার।
রাতে ফ্যান বন্ধ করে গায়ে হালকা কাঁথা বা চাদর জড়াতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। কলারোয়ার কেরালকাতা, হেলাতলা, কুশোডাঙ্গা,বা জয়নগরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামের মোড়ে মোড়ে ভোরের দিকে চায়ের দোকানে এখন জমে উঠছে মাটির গন্ধে ভরা আমুদে আড্ডা।
"কয়েকদিন ধরেই কলারোয়ায় রাতের শেষভাগে বেশ ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। ভোরের দিকে কুয়াশার কারণে মেঠো পথগুলো আবছা হয়ে থাকে। কার্তিকের এই প্রারম্ভিক ঠান্ডা কলারোয়ার প্রকৃতিতে এক অন্যরকম রূপ এনে দিয়েছে।"
আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, ঋতু পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য বাড়ছে। এর ফলে ভোরে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। কলারোয়াসহ পুরো জেলায় শীতের এই আগমনী বার্তার সাথে সাথে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাতেও ব্যস্ততা বেড়েছে:
কারিগরদের ব্যস্ততা বেড়েছে লেপ-তোশক বানানোর ও পুরোনো কম্বল রোদে শুকানোর জন্য।
কলারোয়ার বিভিন্ন গ্রামে গাছিরা ইতিমধ্যেই খেজুর গাছ চাঁছা-ছোলা ও নলি বসানোর প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছেন। অপেক্ষা এখন শুধু সুস্বাদু মিষ্টি খেজুরের রসের।
উপজেলার বিভিন্ন মাঠে মাঠে শীতকালীন শাকসবজি—ফুলকপি, বাঁধাকপি, মূলা ও ওলকপির পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
আপাতত আবহাওয়ার এই পরিবর্তন অব্যাহত থাকবে এবং চলতি মাসের শেষের দিকে কুয়াশা ও ঠান্ডার মাতাল হাওয়া আরও জোরদার হবে। শীতের এই মিষ্টি আমেজ কলারোয়াসহ সারা দেশের গ্রামীণ জনপদে ছড়িয়ে দিয়েছে নতুন আনন্দ ও উৎসবের হাওয়া।