মোঃ রাশিদুল কবির সবুজ
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যুব ও ক্রীড়া বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ১৪ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় কলারোয়া পাইলট হাই স্কুল ফুটবল মাঠে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়।
কলারোয়া উপজেলার পৌরসভাসহ ১৩টি ইউনিয়নের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ ফুটবল টুর্নামেন্টকে ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই কলারোয়া পাইলট হাই স্কুল মাঠে খেলোয়াড়, ক্রীড়া সংগঠক, আয়োজক ও দর্শকদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের উপস্থিতি
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু বক্কর সিদ্দিক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলারোয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা কামরুজ্জামান, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা শহিদুল ইসলাম, পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক ডা. ইউনুস আলী বাবু, কলারোয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মীর রফিকুল ইসলাম এবং কলারোয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আহম্মাদ আলী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলারোয়া উপজেলা যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি মো. শামসুল আলম বুলবুল। সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা ওসমান গনি আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
আজকের প্রথম রাউন্ডে তিনটা খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
চন্দনপুর এবং যুগিখালি ইউনিয়নের উদ্বোধনী ম্যাচে চন্দনপুর ১-০ গোলে যুগিখালী ইউনিয়ন কে, দ্বিতীয় ম্যচে ট্রাইব্রেকারে কেড়াগাছি ইউনিয়ন জয়নগর ইউনিয়ন কে ৪-২ গোলে এবং শেষ ম্যাচে দেয়াড়া ইউনিয়ন কেরালকাতা ইউনিয়ন কে ১-০ গোলে পরাজিত করেছে।
তরুণদের মাঠমুখী করার আহ্বান
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজকে মাদক, অপরাধ এবং বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন প্রয়োজন।
তারা বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার চর্চা তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করে। খেলাধুলার মাধ্যমে শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাব গড়ে ওঠে। তাই স্থানীয় পর্যায়ে বড় পরিসরে ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে মাঠমুখী করার উদ্যোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ফুটবলের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হলে অনেক সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়ের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ তৈরি হবে। ভবিষ্যতে এসব খেলোয়াড় জাতীয় পর্যায়েও নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরতে পারবেন।
পৌরসভাসহ ১৩ ইউনিয়নের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কলারোয়া উপজেলার পৌরসভাসহ ১৩টি ইউনিয়নের খেলোয়াড়রা এ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করছেন। ফলে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তের খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবও তৈরি হবে।
টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচকে ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও খেলা দেখতে মাঠে উপস্থিত হন বিভিন্ন বয়সী দর্শক। তাদের করতালি ও উৎসাহে খেলোয়াড়দের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা দেখা যায়।
ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা জানান, কলারোয়ায় নিয়মিত বড় পরিসরে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন হলে তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পাবেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, টুর্নামেন্টটি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। খেলোয়াড়দের ক্রীড়াসুলভ আচরণ বজায় রাখার পাশাপাশি মাঠে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক, খেলোয়াড়, আয়োজক কমিটির সদস্য, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক উপস্থিত ছিলেন।
১৪ দলীয় এই ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে কলারোয়ার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ফুটবলের চর্চা আরও বিস্তৃত হবে এবং কলারোয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ভবিষ্যতে একাধিক প্রতিভাবান ফুটবলার উঠে আসবে।