মোঃ রাশিদুল কবির সবুজ
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে অসহায়, গরিব ও দুস্থ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে শাড়ি বিতরণ করা হয়েছে। শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন অনুষ্ঠানের অতিথিরা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় কলারোয়া উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আরিফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কলারোয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কামারুজ্জামান, সেক্রেটারি মাওলানা শহিদুল ইসলাম, কলারোয়া পৌর জামায়াতের আমির ডা. ইউনুস আলী বাবু, কলারোয়া উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি হরেন্দ্র নাথ রায়, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের উপজেলা সেক্রেটারি সন্দীপ কুমার রায়সহ উপজেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ বলেন, সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা করতে হলে সব ধর্মের মানুষকে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহমর্মিতা নিয়ে একসঙ্গে বসবাস করতে হবে। হিন্দু-মুসলিমসহ সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং একে অপরের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো একটি মানবিক সমাজ গঠনের অন্যতম শর্ত।
তিনি বলেন, আগামী দিনে সমাজে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে সব ধর্মের মানুষ নিরাপদে, সম্মানের সঙ্গে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জীবনযাপন করতে পারেন। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো মানুষের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হওয়া উচিত নয়। বরং পারস্পরিক সহযোগিতা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে সমাজকে এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, উৎসব শুধু আনন্দ উদ্যাপনের বিষয় নয়; উৎসবের আনন্দ অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। সমাজের দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ালে সমাজে মানবিকতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।
ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের বিভিন্ন ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে বসবাস করে আসছেন। এই ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে ধর্মীয় উৎসবগুলোতে একে অপরের আনন্দে অংশগ্রহণ এবং বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব।
তারা আরও বলেন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের উৎসব উদ্যাপনে সহযোগিতা করা একটি মহৎ মানবিক উদ্যোগ। এ ধরনের কার্যক্রম সমাজে সহমর্মিতা বৃদ্ধি করে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সৌহার্দ্য গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শাড়ি ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণের এ উদ্যোগকে অসহায় পরিবারের জন্য সহায়তামূলক কার্যক্রম হিসেবে উল্লেখ করেন উপস্থিত ব্যক্তিরা। তারা ভবিষ্যতেও সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা
কলারোয়া উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অসহায়, গরিব ও দুস্থ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে শাড়ি ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এর মাধ্যমে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিক সহায়তার বার্তা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে সবাই এগিয়ে এলে কলারোয়ায় ধর্মীয় সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে। সব ধর্মের মানুষের সমান মর্যাদা, নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই একটি সুন্দর, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে আয়োজিত এ সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি হিন্দু-মুসলিমসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা।