নিজস্ব প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ৪ নম্বর লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মসজিদের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে আপন মেজো ভাই মো. আসমোতুল্লাহ হাজরার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে মো. এনামুল হাজরার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া কারণে-অকারণে মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকাবাসীকে হয়রানি করার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে আসমোতুল্লাহ হাজরা ও গ্রামবাসীর একাংশের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর লাঙ্গলঝাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় গ্রামবাসীর একাংশ অংশ নিয়ে অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত, হয়রানি বন্ধ এবং প্রশাসনের কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ, লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. এনামুল হাজরা, পিতা মৃত নুর ইসলাম হাজরা, তাঁর আপন মেজো ভাই মো.আসমোতুল্লাহ হাজরার বিরুদ্ধে গত চার মাসে মোট ৯টি মামলা করেছেন। এর মধ্যে কলারোয়া থানায় তিনটি এবং সাতক্ষীরা দায়রা জজ আদালতে ৬ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন।
এ ছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলা-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে এলাকার প্রায় ২০টি পরিবার কোনো না কোনোভাবে ভুক্তভোগী হয়েছে। তবে এসব পরিবারের পরিচয়, অভিযোগের ধরন এবং মামলাগুলোর সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মসজিদের সীমানাপ্রাচীর নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, একটি মসজিদের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। মসজিদের পাশে আসমোতুল্লাহ হাজরার জমি রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, মসজিদের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের সময় প্রাচীরটি তাঁর জমির প্রায় এক ফুট ভেতরে চলে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, এ বিরোধের জেরে এনামুল হাজরা মসজিদের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দেন এবং পরবর্তী সময়ে তাঁর ভাই আসমোতুল্লাহ হাজরার বিরুদ্ধে থানা ও আদালতে একাধিক মামলা করেন। তবে প্রাচীর নির্মাণ ও ভাঙার ঘটনা, জমির প্রকৃত সীমানা এবং মামলা দায়েরের কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন।
চার মাসে ৯ মামলার অভিযোগ, আর্থিক ক্ষতির দাবি
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেন, মাত্র চার মাসের মধ্যে একাধিক মামলার মুখোমুখি হওয়ায় আসমোতুল্লাহ হাজরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মামলা পরিচালনা, আদালতে যাতায়াত এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বহন করতে গিয়ে তাঁকে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
তাঁদের বক্তব্য, কোনো বিরোধের নিষ্পত্তি করতে হলে আইনানুগ পদ্ধতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। কিন্তু একের পর এক মামলা দায়েরের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারের ওপর আর্থিক ও সামাজিক চাপ তৈরি হতে পারে। তাই দায়ের করা মামলাগুলোর প্রকৃত কারণ, অভিযোগের ভিত্তি এবং বর্তমান অবস্থা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার দাবি জানান তাঁরা।
প্রায় ২০টি পরিবার হয়রানির শিকার বলে দাবি
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, এনামুল হাজরা কারণে-অকারণে মামলা দায়ের করে স্থানীয়দের হয়রানি করছেন। তাঁদের দাবি, এ ধরনের বিরোধ ও মামলা-সংক্রান্ত ঘটনায় এলাকার প্রায় ২০টি পরিবার ভুক্তভোগী হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে চলা বিরোধ ও মামলা নিয়ে তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা জরুরি বলে মনে করছেন তাঁরা।
তবে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তাঁদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর নথিপত্র যাচাই ছাড়া কাউকে মিথ্যা মামলা দায়েরকারী হিসেবে চূড়ান্তভাবে অভিহিত করা যায় না। তাই অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।
প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা
মানববন্ধন থেকে কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা কামনা করা হয়।
অংশগ্রহণকারীরা দাবি জানান, মসজিদের সীমানাপ্রাচীর নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ, জমির সীমানা এবং দায়ের করা মামলাগুলোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হোক। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে কোনো ব্যক্তি অন্যায়ভাবে হয়রানির শিকার না হন।
তাঁদের প্রত্যাশা, প্রশাসন উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানে উদ্যোগ নেবে। পাশাপাশি পারিবারিক বিরোধের কারণে এলাকার সামাজিক সম্প্রীতি যেন নষ্ট না হয়, সে বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সমাধানের প্রত্যাশা
মসজিদের সীমানাপ্রাচীর নিয়ে বিরোধ এবং একাধিক মামলা দায়েরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে লাঙ্গলঝাড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামবাসীর দাবি, বিরোধের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির আইনানুগ নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।
এলাকাবাসী আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এতে একদিকে যেমন জমি ও সীমানাপ্রাচীর নিয়ে বিরোধের নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে মামলা-সংক্রান্ত অভিযোগগুলোরও যথাযথ আইনগত সমাধান সম্ভব হবে।