খুলনা প্রতিনিধি :
৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি।
তিনি বলেন, আগামী ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখে ঐতিহাসিক লংমার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই লংমার্চ কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং এটি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধার এবং বৈষম্যহীন ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের এক বলিষ্ঠ সংগ্রাম। দেশের প্রতিটি প্রান্তে আজ যে আন্দোলনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে, খুলনা জেলা জামায়াতকে তার অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, লংমার্চের অংশ হিসেবে আমাদের খুলনা জেলায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ পথসভা অনুষ্ঠিত হবে—একটি ঐতিহাসিক বাবরি চত্বরে (শিববাড়ি) এবং অপরটি ফুলতলা বাসস্ট্যান্ড চত্বরে। এই পথসভাগুলোকে বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত করা আমাদের দায়িত্ব। তিনি দায়িত্বশীলদেরকে ছাত্র-জনতার এই বাঁধভাঙা ঐক্যকে সঙ্গে নিয়েই লংমার্চকে সর্বাত্মকভাবে সফল করতে হবে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে আগামী ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ বাস্তবায়ন উপলক্ষে সোনাডাঙ্গাস্থ দলীয় কার্যালয়ে খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য ও খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমানের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা গোলাম সরোয়ার ও অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মঈনুল ইসলাম, এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, অধ্যক্ষ গাওসুল আযম হাদি, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট লিয়াকত আলী, মাওলানা আমিনুল ইসলাম, মুহা. আমিনুল ইসলাম, অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা আল মুজাহিদ, স ম এনামুল হক, এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, মুহা. আশরাফুল আলম, মুহা. আব্দুর রব, মিয়া মুজাহিদুল ইসলাম, খুলনা উত্তর জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি মোমিনুর রহমান, দক্ষিণ জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি অয়েস কুরুনি প্রমুখ।
প্রধান অতিথি ইজ্জত উল্লাহ এমপি বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি আজ কতটা ভয়াবহ। বর্তমান সরকার পুরোপুরি এক স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী পথে হাঁটছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আজ ধ্বংসের মুখে। স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার পরিচালনা কমিটিতে চলছে নজিরবিহীন দলীয়করণ। যোগ্যদের বাদ দিয়ে দলীয় ক্যাডারদের বসানো হচ্ছে। সারের ডিলার নিয়োগ থেকে শুরু করে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)—সব জায়গায় আজ দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম আসন গেড়ে বসেছে। প্রান্তিক কৃষকদের ন্যায্য মূল্যে সার পাওয়ার সুযোগ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, হাতে গোনা দলীয় লোকদের সুবিধা দিতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে চলছে চরম বৈষম্য; প্রকৃত দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষ আজ বঞ্চিত। আর চারদিকে চলছে অনিয়ন্ত্রিত চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির তাণ্ডব। সাধারণ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে শ্রমজীবী মানুষ—কেউ আজ শান্তিতে নেই। এই অন্যায়, অবিচার ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনতে আগামী ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ। এ উপলক্ষে ৩১ অক্টোবর দুপুর ১২টায় ফুলতলা বাসস্ট্যান্ড চত্বর ১১ দলীয় ঐক্যের বিশাল পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।
অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ বলেন, এই কর্মসূচি আর বেশি দিন বাকি নেই। খুলনা জেলার প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও থানায় সর্বস্তরের তৌহিদী জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। প্রতিটি বাড়ি ও হাট-বাজারে আমাদের দাওয়াত পৌঁছাতে হবে, যাতে ৩১ অক্টোবরের লংমার্চে দল-মত নির্বিশেষে খুলনার সচেতন মানুষ দলে দলে যোগ দেয়। সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে এই কর্মসূচি সফল করা প্রতিটি দায়িত্বশীলের নৈতিক ও সাংগঠনিক দায়িত্ব।
পরিশেষে তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের মূল শক্তি হলো আল্লাহর ওপর সুদৃঢ় ভরসা এবং ত্যাগ-কুরবানির চেতনা। কোনো প্রকার ভয়ভীতি বা বাধা-বিপত্তি আমাদের ঈমানী পথচলাকে স্তব্ধ করতে পারবে না। আসুন, সকল মতভেদের ঊর্ধ্বে উঠে ১১ দলীয় ঐক্যের ঐতিহাসিক লংমার্চ ও খুলনার পথসভাগুলোকে সফল করতে নিজেদের উজাড় করে দিই। মহান আল্লাহ আমাদের এই প্রচেষ্টাকে কবুল করুন এবং দ্বীনের বিজয় দান করুন।