জয়নগর প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নে আশ শুহাদা বালিকা হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দান করা গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে একটি মহলের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, গাছগুলো ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং প্রায় তিন বছর আগে মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য দান করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বারিক গাইন জমি ক্রয়ের পর সেখানে থাকা কয়েকটি গাছ জয়নগর আশ শুহাদা বালিকা হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার উন্নয়নের জন্য দান করেন। গত মাসের ১৪ তারিখে ঝড়ে একটি গাছ উপড়ে পড়ে। পরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ গাছটি কেটে নিরাপদ স্থানে রাখে।
এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি গাছ কাটার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন। পরে বিষয়টি বন বিভাগ ও উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরকে তদন্তের জন্য দেওয়া হয়। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, বন বিভাগের মোহাম্মদ আলী সরেজমিন তদন্ত করে গাছগুলো সরকারি নয় বলে জানান। একইভাবে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের কর্মকর্তারাও গাছগুলো ব্যক্তি মালিকানাধীন বলে মত দেন।
পরবর্তীতে স্থানীয় আমিনের মাধ্যমে ১৯৬২ ও ১৯৯০ সালের রেকর্ড অনুযায়ী জমি পরিমাপ করা হয়। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, পরিমাপে গাছগুলোর অবস্থান নিয়েও বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “গাছগুলো আমাদের মাদ্রাসার অনুকূলে দান করা হয়েছে। মাদ্রাসার উন্নয়নকাজে এগুলো ব্যবহার করা হবে। এই গাছ দিয়ে প্রায় ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে মাদ্রাসার গেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
গাছের দাতারাও সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তারা কয়েক বছর আগে গাছগুলো মাদ্রাসায় দান করেছেন এবং দানের পর সেগুলোর ওপর তাদের আর কোনো দাবি নেই।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গাছ কাটার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মাদ্রাসা ও জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালাচ্ছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জয়নগর ইউনিয়নের সেক্রেটারি মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, “একটি রাজনৈতিক দলকে গাছ কেটে নেওয়ার সঙ্গে জড়ানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।”
এলাকাবাসীর কয়েকজনও মাদ্রাসার পক্ষ নিয়ে বলেন, গাছগুলো মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য দান করা হয়েছে। এগুলো নিয়ে অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি না করে বিষয়টির সঠিক তথ্য যাচাই করা উচিত।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আরও দাবি করেছে, একাধিকবার সাংবাদিক এনে একই বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে মাদ্রাসার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা এ ধরনের অপপ্রচার বন্ধ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।