ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির মালভিয়া নগরে একটি পাঁচতারা আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি নাগরিকসহ অন্তত ২১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার সকালে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের মধ্যে ১৮ জনই বিদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সিএনএন-নিউজ১৮ এর বরাতে এ তথ্য দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সিএনএন-নিউজ১৮-এর দেওয়া তথ্য অনুসারে রয়টার্স বলছে, নিহতের তালিকায় থাকা বিদেশিদের বেশিরভাগই বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া, মোজাম্বিক ও লাইবেরিয়ার নাগরিক।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ জানিয়েছেন, সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে বেসমন্টে আগুন লাগে। সেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে হোটেলের ঘরগুলোতে। প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানিয়েছেন, যে সময় হোটেলে আগুন লাগে, সেই সময় ৪০ জন ছিলেন ভরতরে। আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল যে, বেশির ভাগ লোকই আটকে পড়েন। আটকে পড়া ব্যক্তিদের কয়েকজন প্রাণ বাঁচাতে হোটেলের বিভিন্ন তলা থেকে নীচে ঝাঁপ মারেন। কিন্তু ঘরে মধ্যে আটকে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ২০ জনের।
খবর পেয়েই প্রাথমিকভাবে দমকলের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে দমকলের আরও কয়েকটি ইউনিট সেখানে গিয়ে আগুন নেভানো এবং উদ্ধারকাজ শুরু করে।
পুলিশ জানিয়েছে, বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। অনেকে আতঙ্কে হোটেলের বিভিন্ন তলা থেকে লাফ মেরেছেন। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া লোকজনের মধ্যে অনেকেই আহত।
জানা গেছে, দিল্লিতে হোটেলটির অবস্থান হওজ রানি লেনের ভেতরে। গলিটি ঘিঞ্জি এবং সরু। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হোটেলে ২৫টি ঘর রয়েছে এবং সেখানে ৪০ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই বিদেশি নাগরিক এবং তারা চিকিৎসার জন্য ভারতে এসেছেন।
হোটেলটিতে যে সময় আগুন লাগে সে সময় সকলেই ঘুমাচ্ছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি। ফলে আগুন লাগার পরে তারা বেরিয়ে আসতে পারেননি। হোটেলের রাঁধুনি কেসর সিংহ জানিয়েছেন, সকাল ৮টায় তিনি রান্নাঘরে ঢোকেন। বৈদ্যুতিক স্টোভ জ্বালাতে তিনি সুইচ অন করেন। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত বলে দাবি তার।
(নিউজ ডেস্ক ইনডিপেনডেন্ট টিভি)