নিউজ ডেস্ক কলারোয়া প্রতিদিন :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার চৌধুরীআটি গ্রামের সোনাকুড়ির বিলের পশ্চিম পাড়ে বসবাসকারী প্রায় ৫০টি পরিবারের দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগের অবসান হতে যাচ্ছে। বুধবার, ১০ জুন সকালে গ্রামবাসীর উদ্যোগ ও পাঁচটি পরিবারের স্বেচ্ছায় জমি দানের মাধ্যমে বিলের মাঝ দিয়ে প্রায় ৫০০ ফুট দীর্ঘ ও ১০ ফুট প্রশস্ত একটি রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনাকুড়ির বিলের কারণে প্রায় দুই শতাধিক মানুষ দীর্ঘ প্রায় দুইশ বছর ধরে মূল গ্রাম থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বসবাস করে আসছিলেন। শুষ্ক মৌসুমে কৃষি জমির আইল দিয়ে চলাচল করলেও বর্ষা মৌসুমে বিল পানিতে ডুবে যাওয়ায় কোমর পানি ঠেলে বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে হতো তাদের।
বহুবার চেষ্টা করেও স্থায়ী যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব না হওয়ায় সম্প্রতি গ্রামবাসী নিজ উদ্যোগে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এ সময় পাঁচটি পরিবার রাস্তার জন্য স্বেচ্ছায় জমি দান করেন।
ইউপি সদস্য জামাল ফারুকের প্রচেষ্টায় মহল্লা বাসির কষ্ট লাঘবে রাস্তাটি নির্মাণ কাজে অর্থায়ন করছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাসার এবং রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান। উদ্বোধন শেষে তিনি বলেন রাস্তাটি নির্মাণের ফলে গ্রামের দুই অংশের মধ্য সেতুবন্ধনের সৃষ্টি হলো, দীর্ঘ দিনের কষ্ট যেমন লাঘব হবে তেমনি স্কুলগামী শিক্ষার্থী সহ বৃদ্ধ, নারী ও অসুস্থরা যোগাযোগ ব্যবস্থায় রাস্তার সংকট মুক্ত হলো সাথে সাথে গ্রাম বাসির ঐক্য ও জনপ্রতিনিধিদের প্রচেষ্টা থাকলে কঠিন কাজও যে খুব সহজেই করা সম্ভব এটা তার একটি উদাহরণ।
জমিদাতা আব্দুর রশিদ গাজী বলেন, আজ রাস্তা নির্মাণ হচ্ছে, এতে ভালো লাগছে। তবে কয়েক বছর আগে আমার ছেলে স্ট্রোক করে মারা যায়। রাস্তা না থাকায় সময়মতো চিকিৎসকের কাছে নিতে পারিনি। রাস্তা থাকলে হয়তো তাকে বাঁচানো সম্ভব হতো।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। রাস্তা নির্মাণ সম্পন্ন হলে শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধ ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং বর্ষা মৌসুমের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে যাবে।
তারা বলেন এই রাস্তা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও বিচ্ছিন্নতার অবসানের প্রতীক।