দবহাটা প্রতিনিধি :
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেবহাটা উপজেলা শাখার উদ্যোগে অগ্রসর কর্মী শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ৮টায় হাদিপুর আহছানিয়া আলিম মাদ্রাসা মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের কর্মীদের সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, নৈতিক ও আদর্শিক মানোন্নয়ন এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ শিক্ষাশিবিরের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ও অগ্রসর কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস রবিউল বাশার বলেন, একটি আদর্শ সমাজ ও কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় নৈতিকতা, সততা, জবাবদিহি ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের বিকল্প নেই। সংগঠনের কর্মীদের নিজেদের জীবনকে আদর্শের আলোকে গড়ে তোলার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে নিবেদিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, কর্মীদের জ্ঞানার্জন ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতা বাড়াতে হবে। সমাজের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, অসহায় মানুষের সহযোগিতা করা এবং সামাজিক অনিয়ম ও অবক্ষয় দূর করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা প্রত্যেক দায়িত্বশীল কর্মীর নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, তরুণ সমাজ একটি দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাদের মেধা, যোগ্যতা ও নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে পারলে দেশ ও সমাজ এগিয়ে যাবে। এজন্য কর্মীদের নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে সৎ, যোগ্য ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে হবে।
শিক্ষাশিবিরে বক্তারা বলেন, একজন দায়িত্বশীল কর্মীকে ব্যক্তিগত জীবনে আদর্শ, আমানতদারিতা, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার চর্চা করতে হবে। সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করা এবং সমাজে শান্তি, সৌহার্দ্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।
শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল আলম, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও শোভনালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মোস্তফা আসাদুজ্জামান মুকুল, এছাড়া উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা অলিউল ইসলাম, সেক্রেটারি ও সাবেক ছাত্রনেতা এইচ এম ইমদাদুল হক, কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল ওয়াহেদ, সেখ ইসরায়েল আশেক মাগফুর, মাওলানা আনোয়ারুল ইসলাম সহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ও অগ্রসর কর্মীরা।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে নির্ধারিত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা, প্রশিক্ষণ, আত্মশুদ্ধি ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। কর্মীদের সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও সামাজিক দায়িত্ববোধ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, কর্মীদের নৈতিক ও সাংগঠনিক উন্নয়নের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনেরণ শিক্ষামূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।