কলারোয়া প্রতিদিন নিউজ ডেস্কঃ
বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেশের মানুষের সেবা করার স্বপ্ন ছিল সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের বয়ারবাতান গ্রামের মেধাবী তরুণ রিয়াজুল ইসলামের। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ২৭ বছর বয়সেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন এই স্বপ্নবান তরুণ। মাত্র ৯ মাস আগে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া রিয়াজুলের অকালমৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, বন্ধু ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
রিয়াজুল ইসলাম বয়ারবাতান গ্রামের সমশের আলী গাজীর ছেলে। কয়েক দিন ধরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তিনি ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মারা যান। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
রিয়াজুলের বন্ধু ও স্বাস্থ্য সহকারী আফজাল হোসেন জানান, তারা একই সঙ্গে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন। ২০২৩ সালে তাদের মাস্টার্স সম্পন্ন হয়। এরপর রিয়াজুল ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে যোগ দেন। তবে তার মূল স্বপ্ন ছিল প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেওয়া। একবার বিসিএস পরীক্ষায় অংশও নিয়েছিলেন তিনি। সামনে আবার বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
রিয়াজুলের বড় ভাই আক্তারুল ইসলাম আক্তার জানান, কয়েক দিন ধরে তার ভাই ডেঙ্গুতে ভুগছিলেন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুই দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।
পরিবার ও স্বজনরা জানান, রিয়াজুল ছিলেন মেধাবী, শিক্ষিত ও স্বপ্নবান একজন তরুণ। সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়ে মানুষের সেবা করার প্রবল ইচ্ছা ছিল তার। প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি নিয়মিত বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু ডেঙ্গুর কাছে হার মেনে অকালেই থেমে গেল তার সেই স্বপ্নযাত্রা।
প্রায় ৯ মাস আগে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন রিয়াজুল ইসলাম। সংসারজীবনের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তার এমন মৃত্যুতে স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা শোকে ভেঙে পড়েছেন। মৃত্যুকালে তিনি বাবা-মা, স্ত্রী, ভাই, আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
শনিবার (২২ আগস্ট) বাদ জোহর বয়ারবাতান গ্রামের বাড়িতে রিয়াজুল ইসলামের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, বন্ধু, সহপাঠী ও স্বজনরা অংশ নেন।
রিয়াজুলের অকালমৃত্যুতে পরিবার, বন্ধু, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও বন্ধুদের আক্ষেপ, যে তরুণ প্রশাসন ক্যাডার হয়ে দেশ ও মানুষের সেবার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, ডেঙ্গু কেড়ে নিল তার সেই স্বপ্ন, থামিয়ে দিল সম্ভাবনাময় একটি জীবনের পথচলা।