মোঃ রাশিদুল কনির সবুজ
দীর্ঘ কয়েকদিনের তীব্র তাপদাহ ও অসহনীয় গরমের পর অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টি নামল সাতক্ষীরার কলারোয়াসহ আশপাশের এলাকায়। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৬টা থেকে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হলে প্রকৃতিতে নেমে আসে এক অন্যরকম প্রশান্তি। টানা দাবদাহে হাঁসফাঁস করা মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেন।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অঞ্চলের তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকায় জনজীবন হয়ে উঠেছিল দুর্বিষহ। দিনের বেশিরভাগ সময় প্রখর রোদ ও গরম বাতাসে সাধারণ মানুষের বাইরে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক, রিকশাচালক, ভ্যানচালক এবং পথচারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন। প্রচণ্ড গরমে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, শিশু ও বয়স্করাও চরম কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন।
শুক্রবার ভোর থেকেই আকাশে কালো মেঘের আনাগোনা শুরু হয়। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে হঠাৎ করেই বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে চারদিকে স্বস্তির আবহ বিরাজ করে। বৃষ্টির পানিতে ধুলাবালি ধুয়ে যায়, পরিবেশ হয়ে ওঠে নির্মল ও স্নিগ্ধ। দীর্ঘদিনের তাপদাহে ক্লান্ত প্রকৃতি যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টির সময় অনেকেই ঘর থেকে বের হয়ে প্রকৃতির এই প্রশান্তিময় দৃশ্য উপভোগ করেন। কেউ কেউ বৃষ্টিতে ভিজে আনন্দ প্রকাশ করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কয়েকদিনের অসহনীয় গরমের পর এই বৃষ্টি যেন আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।
এলাকার কৃষকরা জানান, সাম্প্রতিক তাপদাহের কারণে জমির মাটিতে আর্দ্রতার ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। অনেক ফসল ও সবজি খেত পানির অভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছিল। এ অবস্থায় এই বৃষ্টি কৃষকদের জন্য অত্যন্ত উপকারী হবে বলে তারা আশা করছেন। বৃষ্টির ফলে জমিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ফিরে আসবে এবং ফসলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘ তাপদাহের পর শুক্রবার সকালের এই বৃষ্টি জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। প্রকৃতি ও মানুষের মনে এনে দিয়েছে প্রশান্তির বার্তা। অনেকেই আশা করছেন, আগামী কয়েকদিন এমন আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে তাপদাহের কষ্ট থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি মিলবে।