আশাশুনি প্রতিনিধি:
বর্ষার বৃষ্টিতে কাদায় একাকার হয়ে গেছে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর-রুইয়ারবিল- শুভাদ্রকাঠি-চাকলা সড়ক। হাঁটুসমান কাদা আর জলাবদ্ধতার কারণে প্রতিদিন জুতা হাতে নিয়ে খালি পায়ে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষক,শ্রমিক,ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে এলেও কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
জানা গেছে,প্রতাপনগর ইউনিয়নের প্রতাপনগর থেকে রুইয়ারবিল,শুভাদ্রকাঠি হয়ে চাকলা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি ঘূর্ণিঝড় আইলার পর থেকে স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা শুরু হওয়ার পর সেই খানাখন্দ কাদা ও পানিতে ভরে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ,প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এই সড়ক দিয়ে স্কুল,কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াত করে। অনেক শিক্ষার্থীকে জুতা হাতে নিয়ে খালি পায়ে কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে দেখা যায়। বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর আগেই অনেকের পোশাক কাদায় নষ্ট হয়ে যায়। এতে যেমন শিক্ষার্থীদের কষ্ট বাড়ছে,তেমনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন অভিভাবকেরাও।
শুধু শিক্ষার্থীরাই নন,দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরাও। কৃষিপণ্য বাজারে নিতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। জরুরি রোগী পরিবহন,ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ প্রায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে প্রতিদিনই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
সড়কটির করুণ চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত সংস্কারের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আলফাজ হোসেন বলেন,“বছরের পর বছর ধরে এই সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছি। বর্ষা এলেই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ছোট ছোট শিশুদের জুতা হাতে নিয়ে কাদার মধ্যে হেঁটে স্কুলে যেতে দেখে খুব কষ্ট লাগে। দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা রিয়াছাত আলী বলেন,“এই সড়কটি প্রতাপনগর ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের প্রতীক। জনগণের সেবা করার সুযোগ পেলে সড়কটির সংস্কারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।”
প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবু দাউদ বলেন,“এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সড়ক। সড়কটির বেহাল অবস্থার বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অনুমতিও পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করার চেষ্টা করা হবে।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী অনিন্দ্য দেব সরকারকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবি,একটি নিরাপদ ও চলাচলযোগ্য সড়ক নাগরিকের মৌলিক অধিকার। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত,কৃষিপণ্য পরিবহন এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে প্রতাপনগর- রুইয়ারবিল- শুভাদ্রকাঠি-চাকলা সড়কটির জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।