সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১৪ নম্বর ফিংড়ী ইউনিয়নের কাছারিয়া বাড়ী হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার একমাত্র সরকারি পানি নিষ্কাশনের কালভার্ট অবৈধভাবে বন্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীসহ আশপাশের প্রায় ৫০টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে ফিংড়ী কাছারিয়া বাড়ী হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত আবেদন দাখিল করা হয়েছে। আবেদনে সরকারি কালভার্টটি দ্রুত উন্মুক্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, মাদ্রাসা ও এতিমখানার পাশ দিয়ে প্রবাহিত সরকারি পানি নিষ্কাশনের কালভার্টটি স্থানীয় মানিক সাধু (পিতা-ভোলা সাধু) অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে বন্ধ করে রেখেছেন। এতে মাদ্রাসা, এতিমখানা এবং আশপাশের প্রায় ৫০টি পরিবারের একমাত্র পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি বের হতে না পারায় পুরো এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
আবেদনকারীদের ভাষ্য, জলাবদ্ধতার কারণে এতিম শিক্ষার্থীদের আবাসিক কক্ষ পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে কুরআন তিলাওয়াত, নামাজ আদায় এবং স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের থাকার স্থান রক্ষায় মাটি ফেলে পানি ঠেকানোর চেষ্টা করতে হচ্ছে। এমনকি রাতভর মগ দিয়ে পানি সেচে কক্ষগুলো ব্যবহার উপযোগী রাখার চেষ্টা চালাতে হচ্ছে।
এ সময় মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এম মহাসিন আলম, মুহতামিম হাফেজ ফয়জুল্লাহ ফিংড়ি এতিমখানা মাদ্রাসা, সহকারী শিক্ষক হাফেজ মুজাহিদুল ইসলাম ফিংড়ি এতিমখানা মাদ্রাসা, যুবদল নেতা মনজুরুল ইসলাম বাপ্পিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারি কালভার্ট বন্ধের প্রতিবাদ করায় মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আব্দুর ছবুর (কচি)-কে জমিজমা-সংক্রান্ত সি.আর. ১৬৮৩/২৫ (সাত.) নম্বর মামলায় জড়ানো হয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি, প্রভাব খাটিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে থাকায় এতিমখানার শিক্ষার্থীরা অভিভাবকহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবগত করা হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রভাবের কারণে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে আবেদনকারীরা সরকারি কালভার্টটি অবিলম্বে উন্মুক্ত করা, ঘটনাটি তদন্তপূর্বক দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং তাদের অভিযোগ অনুযায়ী মামলার বিষয়টিও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত মানিক সাধুর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।