কলারোয়া প্রতিদিন নিউজ ডেস্ক :
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মিশরের বিপক্ষে নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচে মিশরের একটি গোল ভিএআরের সিদ্ধান্তে বাতিল হওয়াকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে ইয়াসের ইব্রাহিমের হেডে এগিয়ে যায় মিশর। এরপর লিওনেল মেসির নেওয়া পেনাল্টি দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক। ৫৮ মিনিটে আবারও আর্জেন্টিনার জালে বল পাঠায় মিশর। মোহাম্মদ সালাহর দুর্দান্ত পাস থেকে মোস্তফা জিকো গোল করলেও ভিএআরের পরামর্শে রেফারি গোলটি বাতিল করেন।
রিপ্লেতে দেখা যায়, আক্রমণের শুরুতে মারওয়ান আতিয়া আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেসকে টেনে ধরেছিলেন এবং তার পায়ের ওপর পা রেখেছিলেন। এ কারণে ফাউলের সিদ্ধান্ত দিয়ে গোল বাতিল করা হয়।
তবে ভিএআরের এই ব্যবহার নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক। প্রশ্ন ওঠে—আক্রমণের কতটা আগের ঘটনা পর্যন্ত ভিএআর পর্যালোচনা করতে পারে এবং এমন দূরের একটি ফাউলের কারণে গোল বাতিল কতটা যৌক্তিক?
তবে সাবেক স্কটিশ স্ট্রাইকার অ্যালি ম্যাকয়েস্ট মনে করেন, সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল। তিনি বলেন, “গোলটি বাতিল হওয়ায় হতাশ, কিন্তু সঠিক কারণেই বাতিল করা হয়েছে। প্রতিপক্ষের জার্সি টানা হয়েছিল।”
এরপর ৬৮ মিনিটে মোস্তফা জিকোর দ্বিতীয় গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মিশর। মনে হচ্ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে যাচ্ছে ‘ফারাও’রা।
কিন্তু শেষদিকে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে আর্জেন্টিনা। ৭৯ মিনিটে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো গোল করে ব্যবধান কমান। চার মিনিট পর লিওনেল মেসি সমতা ফেরান। যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের হেডে জয়সূচক গোল পেয়ে ৩-২ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচ শেষে মিশরের খেলোয়াড়রা জয়সূচক গোল নিয়েও আপত্তি জানান। তাদের দাবি ছিল, আক্রমণের আগে আর্জেন্টিনার এক খেলোয়াড় ফাউল করেছিলেন। তবে ভিএআর পর্যালোচনার পরও গোলের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।
ফলে ভিএআর বিতর্ক, নাটকীয় মোড় এবং রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয় মিশরের, আর আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায় শেষ আটে।