সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার শ্রীপতিপুর এলাকায় নীরবে জনকল্যাণমূলক ও মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে স্থানীয়দের প্রশংসা অর্জন করেছেন মো. আব্দুল আলিম। পথচারীদের জন্য বিনামূল্যে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর খাদ্যের সংস্থান এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে তিনি মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে নিজ উদ্যোগে একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করেন আব্দুল আলিম। ওই নলকূপের সঙ্গে সংযুক্ত করে
কলারোয়া–সরসকাটি সড়কের পাশে একটি পানির ট্যাপ স্থাপন করা হয়, যেখান থেকে প্রতিদিন পথচারী ও আশপাশের এলাকার মানুষ বিনামূল্যে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করেন। অনেকে গৃহস্থালির প্রয়োজনেও এই পানি ব্যবহার করেন। বিশেষ করে তীব্র গরম ও দীর্ঘ পথচলার সময় এ উদ্যোগ এলাকাবাসীর জন্য স্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে।
জানা গেছে, প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার লিটার পানি একটি সংরক্ষণ ট্যাংকে উত্তোলন করে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা হয়। গত চার বছর ধরে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থায়নে এই কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন তিনি।
মানুষের পাশাপাশি প্রাণিকুলের প্রতিও রয়েছে তাঁর আন্তরিক ভালোবাসা। প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর বাড়ির সামনে অতিথি পাখিসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর জন্য কয়েক কেজি খাদ্য ছড়িয়ে দেন তিনি। নিয়মিত এ উদ্যোগের ফলে প্রতিদিন সেখানে অসংখ্য পাখির সমাগম ঘটে। পাখিদের এই মনোরম উপস্থিতি দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন বয়সী মানুষ ভিড় করেন।
এ ছাড়া নিজ গ্রাম দিয়াড়ায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ে তিনটি মসজিদ নির্মাণে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন আব্দুল আলিম। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এত জনকল্যাণমূলক কাজে অর্থ ব্যয় করলেও তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে এখনও একটি সাধারণ টিনের ছাউনি দেওয়া বাড়িতে বসবাস করছেন। তাঁর সাদামাটা জীবনযাপন ও সমাজকল্যাণে আত্মনিয়োগ স্থানীয়দের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, প্রচার-প্রচারণা বা ব্যক্তিগত স্বীকৃতির আশায় নয়; বরং মানবিক দায়বদ্ধতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা থেকেই দীর্ঘদিন ধরে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে চলেছেন আব্দুল আলিম। তাঁর কর্মকাণ্ড সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং অনেকের কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করলে অসহায় মানুষের পাশাপাশি পরিবেশ ও প্রাণিকুলও উপকৃত হবে। তাঁদের মতে, আব্দুল আলিমের উদ্যোগ প্রমাণ করে—আন্তরিক সদিচ্ছা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকলে ব্যক্তিগত উদ্যোগও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও আব্দুল আলিম তাঁর মানবিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবেন। পাশাপাশি তাঁর উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজের আরও বিত্তবান ও সচেতন মানুষ জনকল্যাণমূলক কাজে এগিয়ে আসবেন।