কলারোয়া প্রতিদিন নিউজ ডেস্ক :
সাতক্ষীরার তালায় মেয়েদের শিক্ষা, অধিকার ও আত্মনির্ভরশীলতা নিশ্চিতকরণে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে চলেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্পিক আপ বাংলাদেশ’। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার সরুলিয়া ইউনিয়নের ছোট কাশিপুর ঋষিপাড়া কেন্দ্রে সংগঠনটির গার্লস এমপাওয়ারমেন্ট প্রোগ্রাম (জিইপি)-এর উদ্যোগে এক মাসিক অভিভাবক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকাল ৩টায় আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রের অভিভাবক প্রতিনিধি সুষুমা দাস। সভাটি সঞ্চালনা করে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ঋতু দাস। দাতা সংস্থা ‘স্পিক আপ ফর দ্য পুওর’-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাতক্ষীরা জেলা কমিটির সদস্য সাকিবুর রহমান বাবলা। এছাড়া বক্তব্য দেন ‘স্পিক আপ বাংলাদেশ’-এর জিইপি প্রকল্পের ফিল্ড ম্যানেজার ফ্রান্সিস দাস ও এরিয়া কো-অর্ডিনেটর প্রভাতী শীল।
সভায় বক্তারা বলেন, একটি মেয়ের শিক্ষা নিশ্চিত হওয়ার অর্থ একটি পুরো পরিবার ও সমাজকে আলোকিত করা। তাই মেয়েদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তারা অভিভাবকদের সন্তানদের লেখাপড়ার প্রতি আরও যত্নবান হওয়ার এবং তাদের সুযোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
জানা যায়, ‘স্পিক আপ বাংলাদেশ’-এর জিইপি কর্মসূচির আওতায় সুবিধাবঞ্চিত ও মেধাবী মেয়েদের স্কুল ড্রেস, শিক্ষা উপকরণ, পড়ার টেবিল, বাইসাইকেল, পরীক্ষা ও টিউশন ফিসহ বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাসাপোর্ট প্রদান করা হয়। পাশাপাশি, ১৮ বছর বয়সের আগে কোনো শিক্ষার্থীর বিয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা রোধে তাৎক্ষণিক আইনগত সহায়তা দেওয়া হয়। এছাড়া উচ্চমাধ্যমিকের পর নার্সিং, ডিগ্রি, পলিটেকনিক ও অনার্সসহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা এবং পেশাভিত্তিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ছোট কাশিপুর ঋষিপাড়া জিইপি কেন্দ্রটি ২০১৩ সাল থেকে নিয়মিত পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে এই কেন্দ্রের মাধ্যমে ৯২ জন ছাত্রী শিক্ষা সহায়তা ও স্পন্সরশিপ সুবিধা পাচ্ছে। শিক্ষা বিস্তার, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নারী ক্ষমতায়নের মাধ্যমে একটি সচেতন সমাজ গঠনে কেন্দ্রটি ইতোমধ্যে এলাকাজুড়ে ব্যাপক প্রশংস কুড়িয়েছে।
প্রায় ১০০ জন অভিভাবক ও ৬০ জন শিক্ষার্থীের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সভায় ১০ম শ্রেণির ১০ জন শিক্ষার্থীকে সাপ্লিমেন্টারি বই, ৩৫ জনকে টিউশন ফি, ৫৩ জনকে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফি এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ২০টি পরিবারের মাঝে দুটি করে গাছের চারা বিতরণ করা হয়।