সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের বাসিন্দা গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস স্বেচ্ছায় সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে পবিত্র ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘মো. আব্দুল্লাহ বিশ্বাস’ রেখেছেন। এ বিষয়ে তিনি বিজ্ঞ নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে আইনি হলফনামার মাধ্যমে নিজের ধর্মান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন।
হলফনামায় উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, গোপাল চন্দ্র বিশ্বাসের জন্ম ২০ মে ১৯৭২ সালে। তিনি সাতক্ষীরা জেলার সাতক্ষীরা সদর থানাধীন মাহমুদপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মুসলমানদের আচার-আচরণ, ধর্মীয় জীবনযাপন এবং বিভিন্ন সময়ে ওয়াজ-নসিহত শুনে তিনি ইসলাম ধর্মের প্রতি অনুপ্রাণিত হন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
হলফনামায় তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিজের জ্ঞান, বিবেক ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে স্বেচ্ছায় এবং কারও প্ররোচনা ছাড়াই গত ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এদিন স্থানীয় মসজিদের ইমামের কাছে পবিত্র কালেমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.)’ পাঠের মাধ্যমে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন বলে ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর নিজের পূর্ববর্তী নাম ‘গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস’ পরিবর্তন করে ‘মো. আব্দুল্লাহ বিশ্বাস’ নাম গ্রহণ করেছেন তিনি। হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, ভবিষ্যতে তাঁর ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে নতুন নামটি ব্যবহার করবেন।
নাম পরিবর্তনের বিষয়টিও তিনি হলফনামার মাধ্যমে ঘোষণা করেছেন। এর মাধ্যমে ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি নিজের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের কথাও আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেছেন।
হলফনামায় স্বেচ্ছায় ধর্ম গ্রহণের ঘোষণা
হলফনামায় মো. আব্দুল্লাহ বিশ্বাস উল্লেখ করেছেন, তিনি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণ, স্থানীয় মুসলমানদের ধর্মীয় আচার-আচরণ এবং ওয়াজ-নসিহত থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন বলে জানিয়েছেন।
ধর্মান্তরের মতো ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ব্যক্তির নিজস্ব বিশ্বাস, স্বাধীন ইচ্ছা ও সম্মতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর হলফনামায়ও স্বেচ্ছায় এবং কারও প্ররোচনা ছাড়া ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের এই বাসিন্দার ধর্মান্তর ও নাম পরিবর্তনের বিষয়টি তাঁর হলফনামায় দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পৃথক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।