স্টাফ রিপোর্টার :সাতক্ষীরার সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের বড়খামার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের জমি থেকে গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মসজিদের মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে মসজিদের জমি থেকে বিভিন্ন আকারের প্রায় ১০টি গাছ কেটে ফেলা হয়। এর মধ্যে চারটি বড় আকারের মেহগনি গাছ ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। তাঁদের ধারণা, কাটা গাছগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মসজিদের জমিতে ১৪টি মেহগনি, ছয় থেকে সাতটি আম, দুটি লিচু ও একটি সফেদা গাছসহ শতাধিক গাছ রয়েছে। তাঁদের দাবি, জমিটি দান করেছিলেন প্রয়াত মহাতাব সরদার। জমির পূর্ব পাশে আব্দুর রহিম বাবুর জমি এবং তাঁর বড় ভাই সেলিম গাজীর বাড়ি রয়েছে।
গাছ কাটার ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার জুমার নামাজের পর মসজিদের মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। এ সময় তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, প্রতিবাদে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বড়খামার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল গফ্ফার, সহসভাপতি বাবুর আলী, সদস্য নজরুল ইসলাম শেখ, যুব কমিটির সভাপতি মুহিদুল ইসলাম, মসজিদ কমিটির সদস্য নজরুল সরদার, অর্থ সম্পাদক বজলুর রহমান ও আব্দুস সাত্তারসহ স্থানীয় মুসল্লিরা। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি সদস্য খুরশিদ আলম এবং স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য পদপ্রার্থী জুলফিকার আলী।
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান জানান, গাছ কাটার খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্তকে ফোনে বিষয়টি জানান। ইউএনও বিষয়টি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করেন। পরে সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মেহেদী হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বিষয়টির সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত কাটা গাছগুলো ঘটনাস্থলেই রাখা হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
স্থানীয় কয়েকজন মুসল্লি ও বাসিন্দা গাছ কাটার ঘটনায় আব্দুর রহিম বাবু, তাঁর বড় ভাই সেলিম গাজী ও জেলা তাঁতী লীগের সম্পাদক মনিরুজ্জামান তুহিনের নাম উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের মোবাইল নম্বর পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি প্রশাসনকে জানানোর পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কাটা গাছগুলোও ঘটনাস্থলে রাখা হয়েছে।