সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরায় যুব নেতৃত্বে জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা, সুরক্ষা ও অনলাইন হয়রানী প্রতিরোধে এডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (০৬ জুলাই-২০২৬) সকাল ১০ টায় সদর উপজেলা উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা সিডো বাস্তবায়নে এবং একশনএইড বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় এ এডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সিডো সংস্থার প্রধান নির্বাহী, শ্যামল কুমার বিশ্বাস'র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো: জাহারুল ইসলাম টুটুল,
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন।
এ সময় প্রতিটি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা থানার এস আই(নিরস্ত্র) মমতাজ খাতুন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সাতক্ষীরার প্রোগ্রাম অফিসার ফাতেমা জোহরা,জেলা ঈমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা শেখ মাহবুবুর রহমান, ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল হুদা, গাভা আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ শিবপদ গাইন,সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ওসিসি আব্দুল হাই সিদ্দিক, স্বদেশ এর নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির প্রতিনিধি, শিশু ও নারী নির্যাতন সেল প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা সাইবার ক্রাইম এলার্ট টিমসহ সাংবাদিকবৃন্দ ।
প্রকল্পের কার্যক্রম ও প্রোগ্রামের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য উপস্থাপন করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী মো: তহিদুজ্জামান (তহিদ)।
সাতক্ষীরায় যুব নেতৃত্বে জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা, সুরক্ষা ও অনলাইন হয়রানী প্রতিরোধে বিষয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপনা করেন সাকিব হোসেন।
সভায় অতিথিবৃন্দ বলেন, বর্তমান যুগ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম,অনলাইন মেসেজিং, ভিডিও শেয়ারিং এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাাটফর্ম মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। তবে এসব প্ল্যাাটফর্ম নারীদের জন্য যেমন সুযোগ সৃষ্টি করেছে, তেমনি নতুন ধরনের সহিংসতা ও হয়রানির ক্ষেত্র ও তৈরি করেছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীর প্রতি সহিংসতা শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি একটি সামাজিক ও মানবাধিকারগত সমস্যা। নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার,আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং সাধারণ নাগরিক সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে ডিজিটাল সহিংসতা কমানো সম্ভব। তরুণী, কিশোরী ও কমিউনিটির সদস্যদের মধ্যে অনলাইন লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা, সাইবার হয়রানি, ডিজিটাল অধিকার এবং সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। ডিজিটাল জগতে নারী ও তরুণ-তরুণীদের সম্মুখীন হওয়া অভিজ্ঞতা, প্রতিবন্ধকতা এবং ঝুঁকি সম্পর্কে তথ্যপ্রমাণ তৈরি করা এবং নিরাপদ অনলাইন পরিবেশের জন্য যুব-নেতৃত্বাধীন কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা। অনলাইন লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা মোকাবেলার জন্য যুব গোষ্ঠী, পরিষেবা প্রদানকারী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে রেফারেল, সহায়তা এবং সমন্বয় ব্যবস্থা শক্তিশালী করা। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের সাথে তথ্যপ্রমাণ-ভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে উন্নত প্রতিরোধ, অভিযোগ ও সুরক্ষার ব্যবস্থা করার উদ্দেশ্য ছিল এ সভায়।
সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সাক্ষরতা শিক্ষা সম্প্রসারণ,বিদ্যালয়, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং কমিউনিটি পর্যায়ে নিয়মিত সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল অধিকার, অনলাইন গোপনীয়তা এবং নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা।
আইনের কার্যকর প্রয়োগ প্রস্তাবনা উঠে আসে আলোচনা থেকে।
অনলাইন লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা, ভুয়া পরিচয়, ব্ল্যাকমেইল, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস এবং সাইবার হয়রানির বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। এবং কিশোরী ও তরুণীদের জন্য বিশেষ সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যুব নেতৃত্ব ও কমিউনিটি অংশগ্রহণ বৃদ্ধি,প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা,বহুপক্ষীয় সমন্বয় জোরদার করা,সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তথ্যপ্রযুক্তি খাত, গণমাধ্যম, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এবং যুব সংগঠনের সমন্বয়ে অনলাইন সহিংসতা প্রতিরোধ ও নিরাপদ ডিজিটাল সমাজ গঠনে যৌথ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করার বিষয়ও উঠে আসে ।