কলারোয়া প্রতিদিন নিউজ ডেস্ক:
হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে ২৫ বিঘা পৈতৃক জমির চিংড়ি ঘেরে হামলা, ভাঙচুর ও ১০ লক্ষাধিক টাকার মাছ লুটের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২৩ আগষ্ট) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শহরের সুলতানপুর এলাকার মৃত ফজলুল কাদেরের মেয়ে ফারজানা কাদের অরিন এই অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি শরীফুল ইসলাম ও আলমগীর হোসেনের অশুভ তৎপরতা বন্ধ এবং তাঁদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দেবহাটা থানার বালিখা ও বিল শিমুলবাড়িয়া মৌজায় অবস্থিত ধাপার ঘেরে বিভিন্ন দাগে ৮.৩৩ একর সম্পত্তি আমাদের পৈত্রিক। পিতা ফজলুল কাদের ২০০২ সালে মারা যাওয়ার পর আমার মা ও আমাদের তিন ভাই বোনকে অসহায় পেয়ে আমার দাদা আবুল কাশেম ও তাঁদের ওয়ারেশ শরিফুল ইসলাম ও আলমগীর হোসেন গায়ের জোরে আমাদের এই পৈত্রিক জমিজমা অবৈধভাবে ভোগদখল করতে থাকে।
আমরা জমির হারির টাকা কিংবা সঠিক জমির ভাগ চাইলে তাঁরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। দীর্ঘ ১৬ বছর বহুকষ্ট ও আইনি লড়াইয়ের পর ২০১৮ সালে পিতার বৈধ সম্পত্তিতে অবস্থান নেই এবং সেই আমাদের ওই পৈত্রিক সম্পত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে মাছের ঘেরে বাগদা ও গলদা চিংড়ি চাষ করে আসছিলাম। কিন্তু শরিফুল ইসলাম গংরা আমাদের উক্ত পৈত্রিক জমি জবর দখলের জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিতে থাকে।
ফারজানা কাদের অরিন আরো বলেন, ‘আমাদের বৈধ সম্পত্তির দখল মেনে নিতে না পেরে শরিফুল ইসলামের মাতা তাহমিনা খাতুন বাদী হয়ে সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। পর্যায়ক্রমে মামলাটি জজকোর্ট অতিক্রম করে হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর আদালত বাদীর মামলাটি খারিজ করে দেন।
হাইকোর্টে হেরে গিয়ে বাদীপক্ষ পুনরায় ২০২৫ সালের ২৯ মে সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানির আবেদন করলে, আদালত হাইকোর্টের ‘স্ট্রে অর্ডার’ বলবৎ থাকায় উক্ত মামলার সমস্ত কার্যক্রম স্থগিত করে দেন। আদালতে হেরে গিয়ে বাদীপক্ষ বারবার পুলিশ প্রশাসন ও জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের কাছে মনগড়া অভিযোগ করতে থাকে। কিন্তু মহামান্য হাইকোর্টেও ‘স্ট্রে অর্ডার’ থাকায় পুলিশ প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, হাইকোর্টের আদেশের ওপর তাঁদের বিচার করার কোনো এখতিয়ার নেই।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে এবং আমাদের অসহাত্বের সুযোগ নিয়ে শরিফুলের ভগ্নিপতি আশরাফুল ইসলামের ইন্ধনে শরিফুল, আলমগীর ও তুহিনের নেতৃত্বে লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে গত ১৮ আগষ্ট সকালে আমাদের ২৫ বিঘার মাছের ঘেরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে।
এসময় তারা ঘেরের পাহারাঘর ভাংচুর ও কর্মচারীদের মারপিট করে ঘের থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকার গলদা ও বাগদা চিংড়ি লুট করে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা ঘেরের মধ্যে বিষ ঢেলে দিয়ে যায়। এতে ঘেরের বাকি সব মাছা মারা যায়। পরবর্তীতে শরিফুল, আলমগীর, তুহিন ও জামায়াত নেতা বনি আমিনের নেতৃত্বে সদরের শিমুলবাড়িয়া এলাকায় ৭বিঘার আরেকটি ঘেরে হামলা চালিয়ে লুটপাট করা হয়েছে। এভাবে তারা আমাদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।’
অরিন আরো বলেন, ‘আদালত এবং মহামান্য হাইকোর্টের আদেশের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। পক্ষান্তরে শরিফুল ও আলমগীর গংরা আইন আদালত অমান্যকারী। তাদেরকে আইনের আওতায় এনে আমরা যাতে আমাদের পৈত্রিক ২৫ বিঘা সম্পত্তির চিংড়ি ঘের রক্ষা করতে পারি তার প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’