কলারোয়া প্রতিদিন:
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, জলবায়ু ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা এবং পরিবেশবান্ধব কর্মসংস্থানে তরুণদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগষ্ট-২০২৬) সকাল ৯ টায় সাতক্ষীরা ইয়ূথ হাবে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা সিডো, সাতক্ষীরার বাস্তবায়নে একশনএইড বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় এফরটি প্রকল্পের আওতায় যুব নেতৃত্বে “জাস্ট ট্রানজিশন ও গ্রিণ জবস” বিষয়ক ৩দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণটিতে স্বাগত বক্তব্য ও উদ্বোধন করেন সিডো সংস্থার প্রধান নির্বাহী শ্যামল কুমার বিশ্বাস।
‘জাস্ট ট্রানজশিন ও গ্রিণ জবস’ র্শীষক এ প্রশিক্ষণে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী, বক্ষ্ররাজপুর ইউনিয়ন ও পৌরসভা এবং তালা উপজেলার ধানদিয়া ও নগরঘাটা ইউনিয়নের ১৩টি যুব সংঘ থেকে তরুণ-তরুণীরা অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণটি ৩ দিন চলবে।
উদ্দেশ্য ছিল প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী যুব সদস্যরা ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর, সবুজ কর্মসংস্থান, সবুজ ব্যবসা, জলবায়ু-সহনশীল জীবিকা এবং পরিবেশগতভাবে টেকসই অনুশীলন বিষয়ে জ্ঞান বৃদ্ধি করা। অংশগ্রহণমূলক শিক্ষা, অভিজ্ঞতা বিনিময়, সমস্যা বিশ্লেষণ এবং ব্যবহারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় পরিবেশগত ও জীবিকা সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত ও মোকাবিলা করার জন্য যুবকদের সক্ষমতা শক্তিশালী করা। সাতক্ষীরায় সবুজ জীবিকা, সবুজ উদ্যোক্তা, জলবায়ু সহনশীলতা, পরিবেশগত স্থায়িত্ব এবং ন্যায়সঙ্গত রূপান্তরকে উৎসাহিত করে এমন ৩-৪টি যুব-নেতৃত্বাধীন সামাজিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়ন করা। প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেকের সাটিফিকেট প্রদান করা হবে।
উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মানুষের জীবন-জীবিকা, প্রতিবেশ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে তরুণদের জলবায়ু বিষয়ে সচেতন করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন এবং স্থানীয় পর্যায়ে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রশিক্ষণে ‘জাস্ট ট্রানজিশন’ বা ন্যায্য রূপান্তর ধারণাটিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হচ্ছে। সবুজ ও টেকসই অর্থনীতিতে উত্তরণের প্রক্রিয়াকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়সংগত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি, সবুজ দক্ষতা উন্নয়ন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও তরুণদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো এ ধারণার আওতাভুক্ত।
গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের সেশন পরিকল্পনা ও সহায়ক উপকরণের ভিত্তিতে প্রশিক্ষণটি পরিচালিত হচ্ছে। এতে জলবায়ু পরিবর্তন, জলবায়ু ন্যায্যতা, জ্বালানি রূপান্তর, ন্যায্য রূপান্তর, সবুজ কর্মসংস্থান এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সবুজ অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি টেকসই কৃষি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অন্যান্য পরিবেশবান্ধব খাতে কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সম্ভাবনা তুলে ধরা হচ্ছে।
অংশগ্রহণমূলক ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক পদ্ধতিতে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে আলোচনা, দলীয় অনুশীলন, স্থানীয় প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ, অংশীজন মানচিত্রায়ণ, কেস স্টাডি, প্রতিফলনমূলক অধিবেশন ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের মতো কার্যক্রম থাকছে। অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ এলাকার জলবায়ু ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত সমস্যা ও সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করে সবুজ কর্মসংস্থান ও ন্যায্য রূপান্তর বিষয়ে বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করবেন।
এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে একই বিষয়ে প্রশিক্ষণ আয়োজন ও তরুণদের সম্পৃক্ত করার কৌশলও শেখানো হচ্ছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণেরা স্থানীয় পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে গড়ে উঠবেন এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নচর্চা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও জলবায়ুবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
আয়োজকেরা মনে করেন, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলে সবুজ কর্মসংস্থান ও টেকসই জীবিকার সুযোগ বাড়াতে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ জলবায়ু-সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে তরুণদের অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী করবে।
৩ দিন ব্যাপী এই প্রশিক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন গ্লোবাল প্লাটফর্ম বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী এক্টিভিস্টা সদস্য মারুফুজ্জামান সম্্রাট, জুরায়ের হোসেন ও জ্যোতি সরকার।
প্রশিক্ষণের সহায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহায়ক প্রশিক্ষক হৃদয় মন্ডল। উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প সমন্বয়কারী, মোঃ তহিদুজ্জামান (তহিদ), ইন্সপেরিটর একশনএইড বাংলাদেশ নয়ন হোসেন প্রোগ্রাম অফিসার চন্দ্রশেখর হালদার, ফাইনান্স অফিসার আব্দুস সাত্তার ইয়ূথ ফেলো স্বপ্না পারভীন প্রমুখ।