বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কলারোয়া উপজেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপু ও তার পরিবারকে জড়িয়ে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের মনোনীত প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিবের দেওয়া বক্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন, অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কলারোয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।
সোমবার (১০ আগস্ট) এক বিবৃতিতে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মুহাঃ কামারুজ্জামান বলেন, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবং অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপুর নাম জড়িয়ে হাবিবুল ইসলাম হাবিব পরিকল্পিতভাবে একের পর এক বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছেন। এসব বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই এবং এর মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিগত নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই হাবিবুল ইসলাম হাবিব জামায়াতে ইসলামী ও দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি কলারোয়া উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের সিংহলাল বাজারে এলজিইডির একটি সড়ক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন।
জামায়াতের বিবৃতি অনুযায়ী, ওই বক্তব্যে হাবিবুল ইসলাম হাবিব অভিযোগ করেন, প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভোট কেটে ইজ্জত উল্লাহ এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, প্রতিটি ব্যালটে ২০০ থেকে ৩০০ ভোট দাঁড়িপাল্লার প্রতীকের পক্ষে দেওয়া হয়েছে এবং মাদ্রাসার শিক্ষকদের এজেন্ট বানিয়ে ভোট কাটা হয়েছে। এছাড়া মুড়ির প্যাকেট ও বাদামের মধ্যে টাকা এবং রাতের আঁধারে টাকা দিয়ে দরিদ্র মানুষকে ভোটে প্রভাবিত করার অভিযোগও করেন তিনি।
এসব অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে মাওলানা মুহাঃ কামারুজ্জামান বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকা জরুরি। প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের বক্তব্য জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ছাড়া আর কোনো উদ্দেশ্য পূরণ করে না।’
অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপুকে নিয়ে হাবিবুল ইসলাম হাবিবের বক্তব্যেরও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয় বিবৃতিতে। হাবিবুল ইসলাম হাবিব অধ্যক্ষ বিপুকে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়।
এর জবাবে অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপু বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না। বরং একজন ব্যক্তিকে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে গিয়ে তিনি আহত হয়েছিলেন। এ ঘটনার সাক্ষী হিসেবে তালা উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম ফারুকের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানতে তার সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে।
মাওলানা মুহাঃ কামারুজ্জামান বলেন, ‘অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপুর বিরুদ্ধে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা তার সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। অতীতের একটি ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে কাউকে সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ও উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপুর বিরুদ্ধে যেসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া ও নৈতিকভাবে পরাজিত শক্তির ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়। জনগণের ক্রমবর্ধমান সমর্থনে ভীত হয়ে একটি মহল বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে।’
জামায়াতের উপজেলা আমীর বলেন, ‘মিথ্যাচার ও অপপ্রচার করে জনগণের সমর্থন অর্জন বা পরিবর্তন করা যায় না। জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন। তারা রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি বাস্তবতা ও কাজের মূল্যায়ন করেই তাদের সিদ্ধান্ত নেবে।’
তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অসত্য তথ্য প্রচার থেকে বিরত থেকে গঠনমূলক রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় ফিরে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী ও এর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে; কিন্তু সেই মতপার্থক্য কোনোভাবেই মিথ্যাচার, অপপ্রচার কিংবা ব্যক্তিগত চরিত্রহননের পর্যায়ে যাওয়া উচিত নয়।’