যশোরের কৃতি সন্তান দেলোয়ার হাসান শিশির শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (শাকসু) নির্বাচনে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (শাকসু) নির্বাচনে ২৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করেছে ছাত্রশিবির। শিবির সমর্থিত এই প্যানেলের নাম ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’।

গত রোববার (৭ ডিসেম্বর) বিকেল সোয়া ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে প্যানেলের ঘোষণা দেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ।

শাকসু ভিপি পদে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী দেলোয়ার হাসান শিশির।

সংগ্রাম থেকে উঠে আসা এক সাহসী ছাত্রনেতার লড়াই।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাস্ট) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ভিপি) নির্বাচন আগামী ২২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন দেলোয়ার হাসান শিশির—জুলাই যোদ্ধাদের একজন সমন্বয়ক ও সংগ্রামী ছাত্রনেতা।

দেলোয়ার হাসান শিশিরের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের দেয়াড়া গ্রামে। তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন এক মধ্যবিত্ত পরিবারে। তাঁর পিতা আশরাফ আলী একজন সবজি ব্যবসায়ী এবং মাতা আঞ্জুয়ারা বেগম একজন গৃহিনী। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয় এবং তিন বোনের একমাত্র ভাই।

শিশিরের শিক্ষাজীবনের শুরু নারাঙ্গালী দাখিল মাদ্রাসা থেকে। সেখান থেকেই তিনি পঞ্চম, অষ্টম ও দশম শ্রেণি সম্পন্ন করেন। পরে গাজীর দরগাহ মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন।

ছোটবেলা থেকেই দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করেই তাঁর বেড়ে ওঠা। পরিবারের হাল ধরতে তিনি নিয়মিত পিতার কাজে সহযোগিতা করেছেন। বাস্তব জীবনের এই সংগ্রাম তাঁকে গড়ে তুলেছে সাহসী, মানবিক ও দায়িত্বশীল একজন ছাত্রনেতা হিসেবে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দেলোয়ার হাসান শিশির জুলাই যোদ্ধাদের একজন সমন্বয়ক হিসেবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান ও শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিতে দৃঢ় ভূমিকার কারণে তিনি ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসে ব্যাপক পরিচিতি ও আস্থার জায়গা তৈরি করেছেন।

২০ জানুয়ারির ভিপি নির্বাচনে তিনি শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা, হল ও একাডেমিক সমস্যা সমাধান, দুর্নীতিমুক্ত ক্যাম্পাস এবং একটি নিরাপদ ও মানবিক বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে মাঠে নেমেছেন।

সংগ্রাম থেকে উঠে আসা এই তরুণ সমন্বয়কের দিকে তাকিয়ে এখন সাস্টের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তিনি কতটা শিক্ষার্থীবান্ধব নেতৃত্ব দিতে পারেন, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।
তিনি সবার নিকট দোয়া প্রার্থী।



মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked as *