ব্রেকিং নিউজ :

মেয়াদ ফুরিয়ে ৩ মাস পার, আধা কিলোমিটার সড়কের কাজে চরম দুর্ভোগ


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৮, ২০২৬, ২:৪০ অপরাহ্ন | ১৯৯
মেয়াদ ফুরিয়ে ৩ মাস পার, আধা কিলোমিটার সড়কের কাজে চরম দুর্ভোগ

আরিফুল ইসলাম:
আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের মাড়িয়ালা হাই স্কুলের সামনের সড়ক সংস্কারের দায়িত্ব পেয়েছিলেন এক ঠিকাদার। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অজ্ঞাতেই কাজ হস্তান্তর করা হয় এক সাব-ঠিকাদারের কাছে। দফায় দফায় মেয়াদ বাড়ানোর পরও কাজের অর্ধেকও শেষ করতে পারেনি তারা। এর ওপর গত দেড় মাস ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে নির্মাণকাজ। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা।
​উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ‘আনুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ হতে মহিষকুড় জিসি ভায়া মাড়িয়ালা খেয়াঘাট সড়ক’-এর মাড়িয়ালা অংশ থেকে মাড়িয়ালা মোড় পর্যন্ত ৯০৫ মিটার সড়ক মেরামতের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। ৮৮ লাখ ২৭ হাজার ৫৫৮ টাকা চুক্তিমূল্যে কাজটি পায় ‘মেসার্স করিম কনস্ট্রাকশন’ (স্বত্বাধিকারী আলমগীর হোসেন)। চুক্তি অনুযায়ী চলিত বছরের ১৩ জানুয়ারি কাজ শুরু হয়ে ৮ এপ্রিলের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
​স্থানীয়দের অভিযোগ, মূল ঠিকাদার নির্ধারিত সময়ে কাজ না করে সাতক্ষীরার আবুল হোসেন নামে এক সাব-ঠিকাদারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। সাব-ঠিকাদার কাজ শুরু করলেও বিকল্প যাতায়াতের কোনো পথ না রেখে পুরো রাস্তা খুঁড়ে ফেলে রাখেন। যাতায়াতের পথ না থাকায় মাড়িয়ালা হাই স্কুল, স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের যাতায়াত বন্ধের উপক্রম হয়।
​জনভোগান্তি চরমে পৌঁছালে স্থানীয়দের দাবির মুখে সময় বাড়িয়ে ৩ মে পর্যন্ত নির্ধারণ করে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বর্ধিত সময় পার হওয়ার পর আরও প্রায় তিন মাস অতিক্রান্ত হলেও বালি ফেলা ছাড়া দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি। ভূ-গর্ভস্থ বালি ব্যবহারের অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা জানান, গত ৪৫ দিন ধরে কাজ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে।
​যোগাযোগ করা হলে মূল ঠিকাদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সাব-ঠিকাদার আবুল হোসেন নিজের দায় এড়িয়ে বলেন, “দায়বদ্ধতার বিষয়ে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারের কাছে নালিশ করেন, জবাব সেখানেই পাবেন। আমরা জায়গা ঠিক রেখেছি।”
​এ বিষয়ে আশাশুনি উপজেলা প্রকৌশলী অনিন্দ্যদেব জানান, “সড়কের প্যালিসেডিং ও বালি ফেলার কাজ হলেও ম্যাকাডাম, কার্পেটিং ও মাটির কাজ বাকি রয়েছে। বারবার তাগাদাপত্র দেওয়ার পরও কাজ শেষ না করায় বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
​সাতক্ষীরা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জানান, “সড়কটির নির্মাণকাজে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”