
বিশেষ প্রতিবেদক:
সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা ও বিভিন্ন কার্ড পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রামীণ অসহায় নারীদের শ্লীলতাহানি এবং পরকীয়ায় বাধ্য করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার ৯ নম্বর দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) মোজাফফরের বিরুদ্ধে। একই গ্রামের বাসিন্দা মানবেন্দ্রর স্ত্রী শম্পা রানীর (পিতার বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগর) সাথে অবৈধ পরকীয়া সম্পর্কসহ স্থানীয় একাধিক নারীর সাথে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জোরালো তথ্য-প্রমাণ প্রকাশ্যে আসায় খুলনা ও সাতক্ষীরাজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, শম্পা রানীর পরিবার সনাতন ধর্মাবলম্বী হওয়ার সুযোগ এবং তাদের সাথে দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পর্কের অযুহাত কাজে লাগিয়ে মোজাফফর মেম্বার অনৈতিক ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন। শম্পা রানীর স্বামী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও মেম্বারের বিভিন্ন প্রলোভনে তিনি এই সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এর ফলে শম্পা রানীর সংসারে স্বামী এবং শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে স্থায়ী বিশৃঙ্খলা, কলহ ও গণ্ডগোল চরম আকার ধারণ করেছে।
কোনো লিখিত বা স্পষ্ট প্রমাণ না রাখার জন্য চতুর মোজাফফর মেম্বার মূলত ফেসবুক মেসেঞ্জার এবং হোয়াটসঅ্যাপের মতো অ্যাপে প্রতীকী ইশারা-ইঙ্গিতে যোগাযোগ বজায় রাখতেন। তবে সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে তাদের দীর্ঘদিনের অবৈধ চ্যাটিং এবং গোপন যোগসাজশের চাঞ্চল্যকর প্রমাণ উন্মোচিত হয়েছে।
এলাকাবাসীর অনুসন্ধানী তথ্যমতে, কয়রা থানার বিতর্কিত সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান বাবুর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে মোজাফফর মেম্বার কোটি কোটি টাকার টেন্ডারবাজি ও দুর্নীতি পরিচালনা করতেন। নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদ-পদবী ব্যবহার করে ক্ষমতার দাপটে তিনি বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। চালের কার্ড, ভিজিডি, ভিজিএফ ও সরকারি অনুদান দেওয়ার কথা বলে সাধারণ নারীদের কুপ্রস্তাব দেওয়া এবং শারীরিক শ্লীলতাহানির একাধিক ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে বর্তমানেও গোপনে নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি নতুন এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, গ্রেপ্তার এড়াতে ও পুলিশি ঝামেলা থেকে বাঁচতে তিনি স্থানীয় পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছ থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের টাকা উত্তোলন করে থানায় পৌছে দিতেন, যাতে পুলিশ কাউকে আটক না করে।
জনপ্রতিনিধির ছদ্মবেশে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড, পরকীয়া, নারী নির্যাতন এবং পুলিশ প্রশাসনকে ঘুষ দিয়ে রাজনৈতিক চক্রান্তের তথ্য বেরিয়ে আসায় চুরামুখা ও শ্যামনগরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র জনক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ জনগণ অবিলম্বে নিরপেক্ষ প্রশাসনিক তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুলিশকে ম্যানেজ করার নামে অর্থ উত্তোলনকারী ও নিষিদ্ধ সংগঠনের পদধারী এই মেম্বারকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :