মেহগনির ফল এখন অফুরন্ত সম্ভাবনার নাম।

অতিসাধারণ ও অবহেলিত মনে হলেও মেহগনির ফল এখন সম্ভাবনাময় শিল্পের কাঁচামাল। এই ফলের প্রতিটি অংশ দিয়েই তৈরি হচ্ছে নানান পণ্য। শক্ত আবরণ ব্যবহার হচ্ছে মশার কয়েল তৈরিতে, চামচের মতো দেখতে পাতলা অংশ ও ভেতরের ফোমের মতো অংশ রপ্তানি হচ্ছে খেলনা তৈরির কাঁচামাল হিসেবে। বীজ দিয়ে শুধু চারা নয়, কৃষি কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের তেলও উৎপাদন হচ্ছে।

কলারোয়া উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নের ফারুক হোসেনসহ অনেকেই এই ফল প্রক্রিয়াজাত করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। সৃষ্টি হয়েছে বহু নারী–পুরুষের কর্মসংস্থানও। তারা জানান, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। একসময় এ বীজ মালয়েশিয়াসহ বিদেশে রপ্তানি হতো বলেও জানান তারা।
তবে সম্প্রতি এই শিল্পে নেমে এসেছে মন্দা। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় হতাশ ব্যবসায়ীরা। রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমেছে বলেও দাবি তাদের। ফলে অনেক শ্রমিক পেশাটি ছেড়ে অন্য কাজে চলে যাচ্ছেন।

ব্যবসায়ীদের দাবি, দেশে যদি মেহগনি ফল প্রক্রিয়াজাতকরণের কারখানা স্থাপন করা যায়, তবে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

কৃষি কর্মকর্তারা মো: আসাদুজ্জামান জানান, মেহগনির বীজ থেকে প্রস্তুত তেল ও নির্যাস ব্যবহার করে বলাইনাশক ও অন্যান্য কৃষি–উপযোগী উপাদান তৈরি করা হচ্ছে, যা জমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।###



মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked as *