ব্রেকিং নিউজ :

ইব্রাহিমকে ‘জামায়াত কর্মী’ দেখিয়ে ভিডিও প্রচার, ইউনিয়ন ও উপজেলা জামায়াতের প্রতিবাদ


প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১২, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ন | ২১৯
ইব্রাহিমকে ‘জামায়াত কর্মী’ দেখিয়ে ভিডিও প্রচার, ইউনিয়ন ও উপজেলা জামায়াতের প্রতিবাদ

কলারোয়া (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কেঁড়াগাছি ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের ইব্রাহিম খলিল মুজাহিদকে বেধড়ক মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে কেঁড়াগাছি ইউনিয়ন ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।

সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে ইব্রাহিম খলিল মুজাহিদকে মারধরের দৃশ্যের পাশাপাশি তাকে ‘জামায়াত কর্মী’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে কেঁড়াগাছি ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোঃ সাবুর আলী ও সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ ফিরোজ আহমেদ এক প্রতিবাদী ভিডিও বার্তায় এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা দাবি করেন, ইব্রাহিম খলিল মুজাহিদ জামায়াতে ইসলামীর কোনো কর্মী বা জনশক্তি নন। তাকে জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে ভিডিও প্রচার করা অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিভ্রান্তিকর।
একই ঘটনায় প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন কলারোয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মুহাঃ কামারুজ্জামান এবং সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ শহিদুল ইসলাম। তারাও ইব্রাহিম খলিল মুজাহিদকে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী হিসেবে উপস্থাপনের বিষয়টি সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ইব্রাহিম খলিল মুজাহিদের পিতা হাফেজ ইউনুস আলী বলেন, “গতকাল রাতে উভয় পক্ষের সম্মতিতে এবং উভয় পক্ষের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে কলারোয়া হাসপাতাল মাওলানা আমিরুল ইসলাম রেজিস্টারের বাড়িতে বসে বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, বিয়েটি উভয় পরিবারের অভিভাবকদের সম্মতিতেই সম্পন্ন হয়েছে। ফলে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিষয়টি নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকেও অসন্তোষ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইব্রাহিম খলিল মুজাহিদের প্রথম পক্ষের স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বনিবনা হচ্ছিল না। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ-বিচারও হয়েছে বলে জানা গেছে। দ্বিতীয় বিয়ের পর প্রথম পক্ষের শ্বশুরের হাতে তার মারধরের অভিযোগ ওঠে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাকে মারধরের সময় ‘আর বিয়ে করবি?’—এমন কথা বলতে শোনা যায় বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।

এদিকে ইব্রাহিম খলিল মুজাহিদকে ‘জামায়াত কর্মী’ হিসেবে উপস্থাপন করে ভিডিও প্রচারের বিষয়টি নিয়ে কেঁড়াগাছি ও কলারোয়া উপজেলা জামায়াতের নেতারা প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

তবে মারধরের ঘটনার প্রকৃত কারণ, বিয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এবং ভিডিওটি কীভাবে ও কার মাধ্যমে ছড়িয়েছে—এসব বিষয়ে আরও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।