
মোঃ রাশিদুল কবির সবুজ
সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঝিকরা এলাকায় ২৯শে আগষ্ট শনিবার মাগরিবের নামাজের পর মসজিদে ফেরদাউসে পবিত্র সিরাতুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবন, কর্ম, চরিত্র ও আদর্শ সম্পর্কে আলোচনা এবং তাঁর দেখানো পথে ব্যক্তি ও সামাজিক জীবন পরিচালনার আহ্বান জানাতে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন খুলনা দারুল উলুম সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসার সিনিয়র মুফাসসির আল্লামা মনিরুজ্জামান। তিনি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তাঁর আদর্শ অনুসরণের গুরুত্ব সম্পর্কে উপস্থিত মুসল্লি ও এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলারোয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আহমাদ আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলারোয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা তৌহিদুর রহমান এবং কলারোয়া পৌর জামায়াতের আমির অধ্যাপক ডাঃ ইউনুস আলী বাবু। এছাড়াও পৌরসভা ও বিভিন্ন ওয়ার্ড জামায়াতের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মুসল্লি ও ধর্মপ্রাণ এলাকাবাসী মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা পর্বে বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শৈশব, নবুয়ত লাভ, দাওয়াতি জীবন, মানবতার প্রতি তাঁর ভালোবাসা, ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠা, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ এবং উত্তম চরিত্রের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, রাসূল (সা.) শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুকরণীয় আদর্শ রেখে গেছেন। তাঁর জীবন ও কর্মের মধ্যে রয়েছে মানবতার কল্যাণ, ন্যায়বিচার, ক্ষমা, সহনশীলতা, সত্যবাদিতা, আমানতদারি ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার শিক্ষা।
প্রধান বক্তা আল্লামা মনিরুজ্জামান বলেন, বর্তমান সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ ও নানা ধরনের সামাজিক সংকট থেকে উত্তরণের জন্য মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু সিরাত আলোচনা বা রাসূল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার কথা বললেই হবে না; তাঁর সুন্নাহ ও আদর্শকে বাস্তব জীবনে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ব্যক্তি জীবনে সততা, পরিবারে ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ এবং সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাসূল (সা.)-এর আদর্শ বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
বক্তারা আরও বলেন, একজন মুসলমানের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাসূল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করার সুযোগ রয়েছে। তাঁর চরিত্র ছিল সর্বোত্তম। তিনি মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ করতেন, অসহায় ও দরিদ্রদের পাশে দাঁড়াতেন এবং সমাজে শান্তি ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন। তাই নতুন প্রজন্মকে রাসূল (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে জানাতে এবং তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে এ ধরনের সিরাত মাহফিলের গুরুত্ব অপরিসীম।
মাহফিলে বক্তারা বিশেষভাবে তরুণ প্রজন্মকে নৈতিক ও আদর্শিক জীবন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, আধুনিক জীবনের নানা ব্যস্ততা ও সামাজিক পরিবর্তনের মধ্যেও ইসলামের মৌলিক শিক্ষা এবং রাসূল (সা.)-এর আদর্শকে ধারণ করতে হবে। পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরে সত্য, ন্যায়, মানবিকতা ও পারস্পরিক সম্মান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত মুসল্লিরা মনোযোগ সহকারে বক্তাদের আলোচনা শোনেন। পুরো মাহফিলজুড়ে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় উপস্থিত সবার মাঝে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার পাশাপাশি রাসূল (সা.)-এর আদর্শ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়।
সিরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলকে ঘিরে ঝিকরা এলাকার মুসল্লি ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ দেখা যায়। মাহফিলে আগত অতিথি ও বক্তারা আয়োজকদের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে নিয়মিত আলোচনা ও দাওয়াতি কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করা হয়। পাশাপাশি দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহ এবং এলাকার শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে ঝিকরার মসজিদে ফেরদাউসে আয়োজিত সিরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলের সমাপ্তি ঘটে।
আপনার মতামত লিখুন :