ব্রেকিং নিউজ :

লেবাননে নিহত নাহিদুল ইসলাম কফিনবন্দি হয়ে নিজ বাড়িতে ফিরলেন


প্রকাশের সময় : জুন ৭, ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ন | ১১৯
লেবাননে নিহত নাহিদুল ইসলাম কফিনবন্দি হয়ে নিজ বাড়িতে ফিরলেন

স,এম মোস্তাফিজুর রহমান।।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কফিনবন্দি হয়ে নিজ বাড়িতে ফিরলেন লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি ইউনিয়নের প্রবাসী মোঃ নাহিদুল ইসলাম (২০)।
রবিবার (৭ জুন) সকালে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। নাহিদুলের মরদেহ দেখে স্বজনদের বুকফাটা কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
শনিবার গভীর রাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় তার মরদেহ। সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।
গত ১১ মে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়ে অঞ্চলের জিবদিন এলাকায় নিজ বাসভবনে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত হন কাদাকাটি গ্রামের আব্দুল কাদেরের বড় ছেলে নাহিদুল ইসলাম। প্রায় এক মাসের বেশি সময় পর সরকারি ব্যবস্থাপনায় তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু জানান, বিমানবন্দরে সরকারের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে স্বজনরা মরদেহ গ্রহণ করেন।
নাহিদের মৃত্যুতে সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছে তার পরিবার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। বাবা-মা ও ছোট ভাইকে রেখে তার এ অকাল প্রয়াণে পরিবারটি এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। এলাকার মানুষ অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন,নাহিদের উপার্জনেই পুরো পরিবার চলত। তার মৃত্যুর ফলে পরিবারটি চরম সংকটে পড়েছে। পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সরকারের বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার,খুলনার সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ খালেদুর রহমান জানান,মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরেই দাফন-কাফন বাবদ ৩৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া বৈধভাবে বিদেশগামী কর্মীদের জন্য ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে ৩ লাখ টাকা এবং জীবনবীমা বাবদ ১০ লাখ টাকা প্রদান করা হবে। ফলে নিয়ম অনুযায়ী নিহত নাহিদুল ইসলামের পরিবার মোট ১৩ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা পাবে।
তবে অর্থের অঙ্ক যত বড়ই হোক না কেন,পরিবারের এই অপূরণীয় ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। জীবিকার সন্ধানে বিদেশে পাড়ি দেওয়া একজন তরুণ আজ কফিনবন্দি হয়ে ফিরে এসেছেন জন্মভূমিতে। তার মৃত্যুতে শুধু পরিবার নয়,পুরো আশাশুনি উপজেলায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
এ সময় আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু,আশাশুনি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ,কুল্যা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওমর ছাকি পলাশ,কাদাকাটি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক তুহিন উল্ল্যাহ তুহিন,জামায়াতের আমীর মাওঃ আবু বকর সিদ্দিক,প্রধান শিক্ষক মোঃ বদিউজ্জামান,মিজানুর রহমান মন্টু সাহা,ইউপি সদস্য মোঃ ইয়াকুব আলী বেগসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। নামাজে জানাযা শেষে মরহুমকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।