
নিউজ ডেস্ক কলারোয়া প্রতিদিন
আসন্ন সাতক্ষীরা পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ ও জোর আলোচনা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জেলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তন আসায় এবার পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে জমে উঠতে পারে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তাসকিন আহমেদ চিশতি এবং জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থী মো. ওমর ফারুক।
সাতক্ষীরা পৌর রাজনীতিতে তাসকিন আহমেদ চিশতি একটি সুপরিচিত নাম। তিনি এর আগে পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। বর্তমানে তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। এছাড়া পৌর বিএনপির সদস্যসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তাঁর সমর্থকদের দাবি, ওয়ার্ডভিত্তিক সাংগঠনিক যোগাযোগ, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাঁকে অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রাখছে। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ মনে করেন, দলীয় ভোটব্যাংক ধরে রাখতে পারলে তিনি নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীতের কিছু প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক নির্বাচনী প্রচারণায় তাঁর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
অন্যদিকে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার চারটি আসনেই জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের বিজয়ের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও দলটির মধ্যে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সাতক্ষীরা পৌরসভা নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন মো. ওমর ফারুক। স্থানীয় পর্যায়ে তিনি একজন সক্রিয় সংগঠক হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকায় তাঁর একটি নিজস্ব সাংগঠনিক ভিত্তিও রয়েছে।
জামায়াত নেতারা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনে পাওয়া জনসমর্থনের ইতিবাচক প্রভাব পৌরসভা নির্বাচনেও পড়তে পারে। দলীয় সূত্রের ভাষ্য, তরুণ ভোটার ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সমর্থকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই ওমর ফারুককে সামনে আনা হচ্ছে।
সাতক্ষীরা পৌরসভার ভোটে এবার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে সামনে আসতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে বিএনপির সাংগঠনিক ঐতিহ্য ও তাসকিন চিশতির ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, অন্যদিকে জামায়াতের সাম্প্রতিক নির্বাচনী সাফল্য ও সাংগঠনিক আত্মবিশ্বাস—এই দুইয়ের সমন্বয়ে পৌরসভা নির্বাচন হতে পারে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
তফসিল ঘোষণার আগেই দুই শিবিরের নেতাকর্মীরা মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। ফলে শেষ পর্যন্ত কার পক্ষে জনসমর্থনের পাল্লা ভারী হবে, তা নিয়ে এখন থেকেই চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গন—সবখানেই চলছে ব্যাপক আলোচনা।
আপনার মতামত লিখুন :