
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক মো. জাহিদুল ইসলামের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি কলারোয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের পর সাংবাদিক সমাজ, মানবাধিকারকর্মী এবং স্থানীয় সচেতন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগে সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, রোববার (১৪ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার শুভঙ্করকাটি জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি বিষয়ের তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি সেখানে যান। এ সময় শুভঙ্করকাটি গ্রামের ফরুক, নুরুজ্জামান ও কবির হোসেনসহ ৫ থেকে ৭ জন ব্যক্তি তার ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তথ্য সংগ্রহের একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। পরে তারা তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করেন বলে দাবি করা হয়েছে। এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন। অভিযোগে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে সংবাদ প্রকাশ করলে তাকে আরও ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।
সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “সংবাদ সংগ্রহ আমার পেশাগত দায়িত্বের অংশ। জনস্বার্থে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রত্যাশা করছি।”
তিনি জানান, স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে সহকর্মী ও স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কোনো সাংবাদিকের ওপর হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের ওপর আঘাত। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরাও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরতে গিয়ে সাংবাদিকদের বাধার মুখে পড়া বা হামলার শিকার হওয়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
এ বিষয়ে কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, “একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত এবং সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও সচেতন মহল।
আপনার মতামত লিখুন :