ব্রেকিং নিউজ :

যুগিখালী ইউপিতে টিআর-কাবিখার টাকা লুটপাটের অভিযোগ, তদন্ত দাবি এলাকাবাসীর


প্রকাশের সময় : জুন ১৬, ২০২৬, ১:২৭ অপরাহ্ন | ২৫৯
যুগিখালী ইউপিতে টিআর-কাবিখার টাকা লুটপাটের অভিযোগ, তদন্ত দাবি এলাকাবাসীর

উপশিরোনাম:
নামমাত্র কাজ দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ; একই প্রকল্পে দ্বৈত বরাদ্দ ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের অর্থ নিয়ে প্রশ্ন

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ১২ নম্বর যুগিখালী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম ও ৩ নম্বর পাইকপাড়া ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বর) বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর/কাবিখা) প্রকল্পের সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। নামমাত্র কাজ দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দের অধিকাংশ অর্থ লোপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় পাইকপাড়া ইছারউদ্দিন মোড় থেকে আইয়ুব দালালের ডিপের মোড় পর্যন্ত কাঁচা রাস্তায় মাটি ভরাটের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের সিডিউল অনুযায়ী পুরো সড়কে প্রয়োজনীয় পরিমাণ মাটি ফেলার কথা থাকলেও বাস্তবে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে বরাদ্দকৃত অর্থের বড় অংশ আত্মসাতের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, একই রাস্তা দেখিয়ে পরবর্তীতে আরও ১ লাখ ৬২ হাজার টাকার বরাদ্দ নেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি অংশ মাহবুব সানার পুকুরপাড় ভরাট এবং বাকি অংশ কামারালী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য দেখানো হয়েছে।
তবে পুকুর মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সেখানে সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার কাজ করা হয়েছে। অপরদিকে কামারালী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, জাতীয় নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে বিদ্যালয়ে পাঁচটি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। এ কাজে স্থানীয় চেয়ারম্যান বা সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যের কোনো আর্থিক অবদান ছিল না।
এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশনের স্থাপন করা সিসি ক্যামেরাকে নিজেদের প্রকল্পের কাজ হিসেবে দেখিয়ে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু একটি প্রকল্প নয়, ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডেই একই ধরনের অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় ও আত্মসাতের ঘটনা ঘটছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি, নামমাত্র কাজ সম্পন্ন করে বাকি অর্থ ভাগবাটোয়ারা করে নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম ও ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকল্পগুলোর বাস্তব চিত্র যাচাই এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।