
বিশেষ প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের তীব্র আন্দোলনের মুখে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মাসুদুর রহমান, পিপিএম-কে অবশেষে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত ১৬ই আগস্ট জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম পার হওয়ার আগেই প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে সামাজিক আন্দোলন করার সময় সম্প্রতি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মঞ্জুরুল আলম বাপ্পি । এই হামলায় জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতার না করা এবং ভুক্তভোগীরা থানায় মামলা করতে গেলেও অভিযোগ গ্রহণ না করার চরম অভিযোগ ওঠে ওসির বিরুদ্ধে।
হাসপাতালের বেডে শুয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করে ছাত্রদল নেতা মঞ্জুরুল আলম বাপ্পি বলেন, “সদর থানার এই বিতর্কিত ওসি মূলত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলেই তোষামোদের পুরস্কার হিসেবে ‘পিপিএম’ পদক পেয়েছিলেন। সেই ফ্যাসিবাদের দোসর মানসিকতা থেকেই তিনি ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ১৫ই আগস্টের আগে, ১৫ই আগস্টের দিন এবং এর পরবর্তীতেও গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি সাতক্ষীরাতেও ফ্যাসিবাদের দোসরদের মাধ্যমে প্রকাশ্যে মিছিল, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং খিচুড়ি বিতরণের সুযোগ করে দিয়েছেন। ওসির চরম নিষ্ক্রিয়তা ও মদদের কারণেই তারা এসব তৎপরতা চালানোর সাহস পেয়েছে। আর আমাদের ওপর সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মামলা দিতে গেলেও ওসি উল্টো অপরাধীদের সুরক্ষা দিয়েছেন।”
তিনি আবেগপ্লুত কণ্ঠে আরো বলেন, “মাদকমুক্ত ও শান্ত সাতক্ষীরা গড়ে তোলাই ছিল আমাদের অপরাধ। আজ হাসপাতালের বেডে ব্যথাতুর অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকলেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের এই সংগ্রাম থামবে না। আমি আমার দ্রুত সুস্থতার জন্য সাতক্ষীরাবাসীসহ দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই।”
ওসি প্রত্যাহারের বিষয়ে জানতে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলমকে হোয়াটসঅ্যাপ এর মাধ্যমে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।
আপনার মতামত লিখুন :