
মোঃ রাশিদুল কবির সবুজ
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার যুগীখালীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যুব ও ক্রীড়া বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই স্মৃতি ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল খেলা উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় যুগীখালীতে অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই এলাকায় ছিল উৎসবের আমেজ। খেলা দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক ক্রীড়াপ্রেমী মাঠে উপস্থিত হন। দর্শকদের করতালি ও উচ্ছ্বাসে পুরো খেলার মাঠ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যুব ও ক্রীড়া বিভাগের কলারোয়া উপজেলা সভাপতি মু. শামসুল আলম বুলবুল। তিনি খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচিত হন এবং ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করেন।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যুব ও ক্রীড়া বিভাগের কলারোয়া উপজেলা সেক্রেটারি মো. শরিফুজ্জামান মিঠু। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন যুগীখালী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির আব্দুল মান্নান, ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আব্দুল লতিফ , ইউনিয়ন যুব বিভাগের সভাপতি রনিসহ ইউনিয়ন জামায়াত, যুব ও ক্রীড়া বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
ফাইনাল খেলাকে ঘিরে মাঠের চারপাশে দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তরুণ-যুবকদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী মানুষও খেলাটি উপভোগ করতে মাঠে আসেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড়রা জয়ের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ, দারুণ পাসিং ও গোলের সুযোগে পুরো ম্যাচজুড়েই ছিল উত্তেজনা।
আয়োজকরা বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণ সমাজকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, পারস্পরিক সহযোগিতা, সৌহার্দ্য ও নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরি হয়। একই সঙ্গে তরুণদের মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
তারা আরও বলেন, যুগীখালীসহ কলারোয়ার বিভিন্ন এলাকায় ক্রীড়াঙ্গনকে আরও গতিশীল করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সুযোগ করে দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মকে মাঠমুখী করাই এসব আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
‘জুলাই স্মৃতি ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট’কে ঘিরে শুরু থেকেই স্থানীয় খেলোয়াড় ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। টুর্নামেন্টের বিভিন্ন ম্যাচে দর্শকদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। ফাইনাল ম্যাচের মধ্য দিয়ে সফলভাবে টুর্নামেন্টের পর্দা নামে।
খেলা শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। এ সময় অতিথিরা খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো করার জন্য উৎসাহিত করেন।
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা বলেন, যুগীখালীতে এ ধরনের বড় পরিসরের ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের ফলে এলাকার তরুণদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন পর একটি প্রাণবন্ত ক্রীড়া আয়োজন এলাকায় আনন্দ ও উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
উৎসবমুখর পরিবেশ, দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং খেলোয়াড়দের প্রাণবন্ত নৈপুণ্যের মধ্য দিয়ে যুগীখালীর জুলাই স্মৃতি ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
আপনার মতামত লিখুন :