
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের, অনেকেই আপিলের সুযোগ হারিয়েছেন। কিন্তু এ অবস্থায় তারা কেউ আত্মসমর্পণ করলে কিংবা গ্রেপ্তার হলে বিচারিক প্রক্রিয়া কী হবে?
এর ব্যাখ্যায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বলছেন, নির্ধারিত সময় পার হওয়ায় রায় কার্যকরের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। তবে সাবেক চিফ প্রসিকিউটর জানালেন, সংবিধান অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট তাদের আপিলের সুযোগ দিতে পারেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী, রায় প্রকাশের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে কারাগারে থাকা আসামিকে আপিল করতে হবে। এই সময়ে না পারলে আর কোনো সুযোগ মিলবে না।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় গত ১৩ জানুয়ারি। আইন অনুযায়ী পেরিয়ে গেছে আপিলের সময়। তবে তারা যদি গ্রেপ্তার হন কিংবা আত্মসমপর্ণ করেন, তাহলে বিচারিক প্রক্রিয়া কী হবে? এর উত্তরে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, আইনি অনুকম্পার সুযোগ নেই।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় প্রকাশিত হওয়ার পর যখন সকলে বিষয়টি জানছে, এটা জানার পরও তারা যখন ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আদালতে আসলেন না, আপিল ফাইল করলেন না; তাহলে পরবর্তীতে আইনের যখন আর সুযোগ নেই, তখন এসে আইনের অনুকম্পা পাওয়ারও সুযোগ নেই।
তবে সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলছেন, সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ন্যায়বিচারের স্বার্থে আসামির আবেদনে আপিলের সুযোগ দিতে পারেন সর্বোচ্চ আদালত। তিনি বলেন, যেহেতু একজন মানুষের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, সেক্ষেত্রে তারা সাজাট আপিলে দেখতেই পারেন সুপ্রিম কোর্ট। কমপ্লিট জাস্টিসের অধীনে তারা যদি কোনো আপিল ফাইল করেন এবং সুপ্রিম কোর্ট গ্রহণ করলে, সেক্ষেত্রে নিষ্পত্তি সাপেক্ষে সাজা কার্যকর হবে।
তবে এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত করছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘১০৪ তো কমপ্লিট জাস্টিস করবে যখন প্রসিডিংটা সুপ্রিম কোর্টের সামনে যাবে। তবে আপিলটাই যদি সুপ্রিম কোর্টে না যায়, তাহলে কীভাবে হবে?’
ট্রাইব্যুনালে এখন পর্যন্ত ৪টি মামলার রায়ে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১০ জনকে যাবজ্জীবন এবং ৩৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে আবু সাঈদ হত্যা মামলা ছাড়া বাকি ৩ মামলার পলাতক আসামিরা এরই মধ্যে আপিলের সুযোগ হারিয়েছেন।
(নিউজ ডেস্ক বাসস)
আপনার মতামত লিখুন :