ব্রেকিং নিউজ :

কলারোয়ায় নকল-ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রয় প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১, ২০২৬, ৮:১২ পূর্বাহ্ন | ১৮৯
কলারোয়ায় নকল-ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রয় প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

মোঃ রাশিদুল কবির সবুজ
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় নকল, ভেজাল, রেজিস্ট্রেশনবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রয় প্রতিরোধ এবং রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) কলারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের আয়োজনে এ সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ওষুধ ব্যবসায়ী, কেমিস্ট-ড্রাগিস্ট ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভাটি পরিচালনা করেন মোঃ রফিকুল ইসলাম ও এস এম জাকির হোসেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ আব্দুল বারী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ের ঔষধ পরিদর্শক মোঃ বাসারাফ হোসেন।
সভায় বক্তারা বলেন, মানুষের সুস্থতা ও জীবন রক্ষায় ওষুধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ওষুধের গুণগত মান নিশ্চিত করা, সঠিকভাবে সংরক্ষণ, মেয়াদ যাচাই এবং প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে ওষুধ বিক্রি করা প্রত্যেক ওষুধ ব্যবসায়ীর দায়িত্ব। নকল, ভেজাল, রেজিস্ট্রেশনবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এসব ওষুধ সেবনে রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে রোগীর শারীরিক জটিলতা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বক্তারা আরও বলেন, কোনো ফার্মেসিতে রেজিস্ট্রেশনবিহীন, নকল কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ মজুত ও বিক্রি করা যাবে না। ওষুধের প্যাকেটের গায়ে থাকা নাম, ব্যাচ নম্বর, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখসহ প্রয়োজনীয় তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে ওষুধ বিক্রি করতে হবে। পাশাপাশি ওষুধ সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
সভায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধের বিষয়ে। বক্তারা বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ও ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বা সেবন করা হলে এর অপব্যবহার বাড়তে পারে। প্রয়োজন ছাড়া কিংবা ভুলভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে জীবাণুর বিরুদ্ধে ওষুধের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার মতো জনস্বাস্থ্যগত সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি না করার জন্য ওষুধ ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় সাধারণ মানুষের মধ্যেও ওষুধের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, শুধু ওষুধ ব্যবসায়ী নয়, রোগী ও সাধারণ জনগণকেও ওষুধ কেনা ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন না করা এবং ওষুধ কেনার সময় মেয়াদ ও প্যাকেটের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
সভায় কলারোয়ার বিভিন্ন এলাকার ওষুধ ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা, বাস্তব পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তারা ঔষধ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চান এবং আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা চান।
পরে প্রধান অতিথি মোঃ আব্দুল বারী ওষুধ ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং আইন ও বিধিমালা মেনে ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ওষুধ ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, নকল ও ভেজাল ওষুধের বিস্তার রোধ, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি বন্ধ এবং অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি জনসচেতনতা কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের সচেতনতামূলক সভার মাধ্যমে ওষুধ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনসম্মত ও নিরাপদ ওষুধ ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
সভায় উপস্থিত ওষুধ ব্যবসায়ীরা সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালা মেনে ওষুধ বিক্রি, নকল-ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ প্রতিরোধ এবং জনস্বার্থে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে সচেতন থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনার মধ্য দিয়ে সচেতনতামূলক সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।