
কলারোয়া প্রতিদিন নিউজ ডেস্কঃ
চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে অগ্নিকা-ে নিহত সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার আলিমুজ্জামান সাজুর মরদেহ দেশে ফিরেছে। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে তার মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছায়।
ভোমরা ইমিগ্রেশন থেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপর মরদেহ নিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলার বাড়িতে যাবেন স্বজনরা।
ভোমরা ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তা সজিব বালা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুপুরে ভোমরা ইমিগ্রেশন দিয়ে মরদেহটি দেশে পৌঁছেছে। পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।
সাজুর বড় ভাই সাহেব সরদার বলেন, ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে সাজুর মরদেহ দেশে পাঠানো হয়েছে। এখন ভোমরা থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হব। জোহরের নামাজের পর দাফন করার কথা ছিল। তবে মরদেহ পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় কিছুটা সময় লাগবে। বাড়িতে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী সবাই অপেক্ষা করছেন।
শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কালীগঞ্জে সাজুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই স্বজনেরা মরদেহের অপেক্ষায় রয়েছেন। বাড়ির পাশে কবর খনন করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পরই দাফনের কার্যক্রম শুরু হবে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
গত বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে কলকাতার ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে অগ্নিকা-ের ঘটনায় সাজুর মৃত্যুর খবর স্বজনদের কাছে পৌঁছায়। চিকিৎসা শেষে শনিবার দেশে ফেরার কথা থাকলেও তার বদলে মরদেহ হয়ে ফিরলেন তিনি।
এদিকে একই অগ্নিকা-ে নিহত সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার রেবতী সরকারের শেষকৃত্য কলকাতায় সম্পন্ন হয়েছে। তার দুই সন্তান ভারতে থাকায় শুক্রবার কলকাতার নিমতলা ঘাটে তার শেষকৃত্য করা হয়। এ সময় রেবতীর স্বামীও সেখানে ছিলেন।
শনিবার সকালে তারালী ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামে রেবতীর দেবর তপন সরকার বলেন, রেবতী আমার দাদার স্ত্রী। চিকিৎসার জন্য প্রায় ১০ দিন আগে তিনি ভারতে গিয়েছিলেন। শনিবার তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু লাশ হয়ে ফিরবে, সেটা ভাবিনি।
তিনি আরও বলেন, দাদার ছেলে-মেয়ে ভারতে থাকায় কলকাতার নিমতলা ঘাটে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। আমার দাদাও সেখানে গিয়েছেন। গত রাতেও তার সঙ্গে কথা হয়েছে।
কলকাতার হোটেলে অগ্নিকা-ের ঘটনায় সাজু ও রেবতীর মৃত্যুতে কালীগঞ্জের দুই পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সাজুর মরদেহ দেশে ফেরার পর শেষবারের মতো তাকে দেখতে বাড়িতে ভিড় করছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। মরদেহ পৌঁছানোর পর নিজ গ্রামে তার দাফন সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :