ব্রেকিং নিউজ :

নির্বাচনী ইশতেহারে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি পর্যালোচনা: ফলোআপ সভা অনুষ্ঠিত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি একে একে বাস্তবায়ন করা হবে- এমপি আব্দুল খালেক


প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৪, ২০২৬, ৮:৫৫ পূর্বাহ্ন | ১৪৯
নির্বাচনী ইশতেহারে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি পর্যালোচনা: ফলোআপ সভা অনুষ্ঠিত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি একে একে বাস্তবায়ন করা হবে- এমপি আব্দুল খালেক

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরায় যুব-নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী ইশতেহারে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি পর্যালোচনা বিষয়ে রাজনৈতিক ব্যাক্তি, সরকারী কর্মকর্তা, শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, এনজিও, সাংবাদিক ও কমিউনিটির অন্যান্যদের সমন্বয়ে স্থানীয় চাহিদা নিরূপনে নির্বাচনী ইশতেহার শীর্ষক ফলোআপ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগষ্ট-২৬) সকাল ১১ টায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা সিডো বাস্তবায়নে এবং একশনএইড বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় এফরটি প্রকল্পের আওতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সিডো সাতক্ষীরার প্রধান নির্বাহী, শ্যামল কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক।

বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির শহিদুল ইসলাম মুকুল, জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক আবুল হাসান হাদি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী ফরিদা আক্তার বিউটি,উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্লাবণী সরকার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: আবুল হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড সাতক্ষীরার প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রতিনিধি, ভয়েস অব সাতক্ষীরা ও এটিএন বাংলা প্রতিনিধি এম কামরুজ্জামান, মাছরাঙা টেলিভিশন ও দৈনিক আমাদের সময় প্রতিনিধি মো: মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল, সিনিয়র সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি,সাতক্ষীরা প্রসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি আবু সাঈদ বিশ্বাস, বাংলা ভিশনের জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান, স্বদেশ নির্বাহী পরিচালক মাধব দত্ত।

সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সিডো সাতক্ষীরার প্রধান নির্বাহী শ্যামল কুমার বিশ্বাস।

যুব-নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী ইশতেহারে সাতক্ষীরার প্রেক্ষাপট বিবেচনায় স্থানীয় উন্নয়নে চাহিদা নিরুপন প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাতক্ষীরা ইয়ূথ হাবের সভাপতি সাকিব হাসান।
উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবর-২০২৫ সাতক্ষীরায় সকল রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ইলেকশন মেনিফেস্টো সংলাপে সাতক্ষীরার দাবি উপস্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী, এনসিপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নিকট সাতক্ষীরার সমস্যা ও প্রত্যাশা নিয়ে দাবি তুলে ধরা হয়েছিল সেখানে তারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারই প্রেক্ষিতে আজকের এই ফলোআপ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ফলোআপ সভার উদ্দেশ্য নির্বাচনের পুর্বে জনগণের সামনে উপস্থাপিত প্রতিশ্রুতি ও সুপারিশগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা। একইসঙ্গে কোন প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, কোনগুলো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে, বাস্তবায়নে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে—এগুলোই আলোচনার মূল বিষয় ছিল।
সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দেস আব্দুল খালেক বলেছেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো একে একে বাস্তবায়ন করা হবে। জনগণ তাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাতক্ষীরার মাটি ও মানুষের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। তাই এলাকার মানুষের সেবা করা তার দায়িত্ব।
এমপি মুহাদ্দেস আব্দুল খালেক বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের সমস্যা, প্রত্যাশা ও দাবিগুলো গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয়েছে। এখন সেসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এলাকার মানুষের উন্নয়ন ও সেবা নিশ্চিত করতে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সভায় সাতক্ষীরায় সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দ্রুত উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, উপকূলীয় টেকসই বেড়িবাঁধ ও সুপেয় পানি নিশ্চিতকরণ,সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, প্রাণ সায়ের খালের আধুনিকায়ন করা, সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান রোধ করা , রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা, জলবায়ু-সহনশীল কৃষির প্রসার, যুব ও নারীর দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ভোমরা স্থলবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর রুপান্তর করা, আন্তজাতিক মানের স্টেডিয়াম ও ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মান করা, সামাজিক শান্তি-সম্প্রীতি উন্নয়নে ভুমিকা।, জনগণের অংশগ্রহণ স্বচ্ছতা, ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা, অসম্পূর্ণ উদ্যোগ চিহ্নিতকরণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জনগণ, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের মধ্যে নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।