
জাতীয় সংসদের মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, শয়তান যেন আমাদের সংগঠনের দায়িত্বশীলদের অসওয়াসা না দিতে পারে। শয়তানের অসওয়াসা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে হবে।
আজ ১৫ মে জুমআ বার রংপুর মডেল কলেজ মিলনায়তনে রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল জামায়াত আয়োজিত উপজেলা/থানা আমীর সম্মেলন-২০২৬ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিমের সভাপতিত্বে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের নায়েবে আমীর মজলুম জননেতা জনাব এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি। সম্মেলন সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সহকারী অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন অঞ্চল টিম সদস্য, জেলা ও মহানগরী আমীরসহ আমন্ত্রিত মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ।
তিনি আরও বলেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কী হবে আল্লাহ ভালো জানেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, ভোট যুদ্ধ করে নির্বাচনে জয়লাভ করতে হবে। এটাও মনে রাখবেন, টাকা খরচ করে কেউ কিছু করতে পারবে না। অন্য আয়োজন দিয়ে আমাদের হারানোর চেষ্টা করবে। গরিবদের ভুল বুঝবেন না। গরিবরা তাদের ঈমান বিক্রি করে না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি সংগঠন হিসেবে কল্যাণের কাজের যে সমস্ত কর্মসূচি হাতে নেয়, এ কর্মসূচির ক্ষেত্রে কেউ কোনো কৃপণতা করবেন না। আমরা এর আগেও বারবার বলছি, এখনও বলছি। কোনো ব্যক্তি যদি অন্য দলের হওয়ার কারণে তাকে তার পাওনা থেকে বঞ্চিত করেন, তাহলে হাশরের দিন আপনার বোঝা নিয়ে আপনি দাঁড়াবেন। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তারা এ বিষয়টি খেয়াল রাখবেন।
আমীরে জামায়াত আরও বলেন, আমাদের লেনদেন, আচার-আচরণে আগের চেয়ে অনেক সতর্ক হতে হবে। মনে রাখবেন, এর আগে কেউ মনে করত না যে, আপনারা ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন। মনে করত, একটা ইনঅ্যাকটিভ দল হিসেবে এরা বেঁচে থাকবে। এখন অনেকে মনে করে আপনারা হবেন ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বী। কাজেই আপনাদের প্রত্যেককেই সার্চলাইট দিয়ে দেখা হবে। আপনাদের শরীরের একটা লোমও ওই লাইটের বাইরে থাকবে না। দুটি সার্চলাইট এখন আপনাদের দিকে তাক করা আছে, একটা আল্লাহ তায়ালার, আরেকটি জনগণের। এই দুইটাকে সমন্বয় করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতের দায়িত্বশীলের গায়ে কোনো দাগ লাগলে কেউ ছেড়ে কথা বলবে না। মানুষের ভয়ে নয়, আল্লাহর ভয়ে দাগমুক্ত থাকতে হবে। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কিছুই পাওয়া যাবে না। এজন্য বিপদের সময়ে যেভাবে আল্লাহকে ডাকা হয়, এখনও সেভাবে আল্লাহকে স্মরণ করতে দায়িত্বশীলদের আহ্বান জানান আমীরে জামায়াত।
তিনি বলেন, আমরা বিপদে আছি। প্রতিটি মুহূর্তে সতর্ক থাকতে হবে। আল্লাহর ভয়ে ভীত থাকতে হবে। আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল থাকতে হবে।
দায়িত্বশীলদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আপনারা সংগঠনের নিয়মিত কাজ এবং দাওয়াতি কাজ করেন। আমি ব্যতিক্রম কিছু জিনিস আপনাদের কাছে আমানত হিসেবে রেখে যাচ্ছি। সামনে স্থানীয় নির্বাচন আসতেছে। আল্লাহ তায়ালা এমন কিছু মানুষকে বন্ধু-সঙ্গী বানিয়ে দিয়েছেন, জীবনে কোনো দিন তারা আমাদেরকে ভোট দেয়নি, আমাদের মিছিল-মিটিংয়েও যায়নি বরং, ক্ষেত্রবিশেষে আমাদের পোস্টার ছিঁড়েছে, আমাদের ব্যানার কেটে দিয়েছে, আমাদের মিছিলে আক্রমণ করেছে। এরকম বহু মানুষ জাতীয় নির্বাচনে আমাদের সঙ্গী হয়েছে। তাদের মধ্যে এমন যোগ্যতা হয়েছে, আল্লাহ তায়ালা সামাজিক যোগ্যতা দিয়েছেন, সেটা আমার মধ্যে নেই। নির্বাচন হলো একটি সামাজিক লড়াই। সামনের নির্বাচনে এই লোকগুলোকে ইউনিয়নের মেম্বার থেকে সিটি করপোরেশনের মেয়র পর্যন্ত এদের মধ্যে কোনো উপযুক্ত লোক থাকে, প্রতিভা থাকে, আস্তে করে হাতে ধরে তাকে ওখানে নিয়ে যেতে হবে। শর্ত মাত্র দুটো। একটা হলো হারামের সঙ্গে যুক্ত না হওয়া। আরেকটি হলো বদমেজাজি না হওয়া।
আমীরে জামায়াত বলেন, সাড়ে ১৭ বছর এ জাতির ঘাড়ে একটি বোঝা চেপে বসেছিল। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের মধ্য দিয়ে আল্লাহ তায়ালা সেই বোঝাটি সরিয়ে দিয়েছেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনাব এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেন, জুলুম-অত্যাচারের অধ্যায়ের পর জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে বিস্তৃতি পরিসরে আমরা সাংগঠনিক কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। দাওয়াত, সংগঠন ও প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সংগঠনের মজবুতি ও সংহতি অর্জনে মাঠ পর্যায়ের দায়িত্বশীল হিসেবে উপজেলা/থানা আমীরদেরকে কাঙ্খিত ভূমিকা পালন করতে হবে।
সম্মেলনে উপজেলা ও থানাসমূহের বার্ষিক রিপোর্ট ২০২৫ পর্যালোচনা করে ২০২৬ সালের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
আপনার মতামত লিখুন :