
রাশিদুল কবির সবুজ , কলারোয়া (সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে দোল খাচ্ছে সবুজ পাটগাছ। বর্ষা মৌসুমের অনুকূল আবহাওয়ায় কৃষকদের পরিচর্যায় বেড়ে উঠছে সোনালি আঁশের এ ফসল। এমনই এক পাটখেতে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন কৃষক মো. শান্ত হোসেন।
পাট বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী অর্থকরী ফসল। এক সময় দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে পরিচিত এই “সোনালি আঁশ” আজও গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক তন্তু হওয়ায় বিশ্ববাজারেও পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়ছে।
কৃষক মো. শান্ত হোসেন জানান, এ বছর তিনি বেশ কয়েক বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে। নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার ও পরিচর্যার কারণে ফলনও ভালো হবে বলে তিনি আশা করছেন। তবে ন্যায্য বাজারমূল্য পেলেই কৃষকের পরিশ্রম সার্থক হবে বলে তিনি মনে করেন।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্যমতে, পাট চাষে উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক বেশি হলেও সঠিক দাম পাওয়া গেলে লাভের সম্ভাবনাও ভালো। তারা সহজ শর্তে কৃষিঋণ, উন্নত মানের বীজ এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যবহার বাড়ার ফলে বিশ্বব্যাপী এর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক পদ্ধতিতে পাট প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কৃষকদের প্রণোদনা প্রদান জরুরি।
রামচন্দ্রপুরের সবুজ পাটখেত যেন শুধু একটি ফসলের মাঠ নয়, বরং কৃষকের আশা, পরিশ্রম ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের প্রতীক। কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতে পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং কৃষিবান্ধব নীতি বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।
আপনার মতামত লিখুন :