ব্রেকিং নিউজ :

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরায় স্মারকলিপি প্রদান, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান


প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৯, ২০২৬, ১২:০৬ অপরাহ্ন | ১৮৯
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরায় স্মারকলিপি প্রদান, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
“আদিবাসী জীবন ও ঐতিহ্যগত জ্ঞান সুরক্ষায় এগিয়ে আসুন”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে র‌্যালি, স্মারকলিপি প্রদান, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থা (সামস), শ্যামনগর, সাতক্ষীরার আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দিনব্যাপী এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচির শুরুতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও অধিকার সংক্রান্ত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিতে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মো. কাওসার আজিজ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক দক্ষিণের মশাল পত্রিকার সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী, সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থা (সামস)-এর পরিচালক কৃষ্ণ পদ মুন্ডা এবং সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি মনিরুল ইসলাম মিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থা (সামস)-এর সভাপতি গোপাল চন্দ্র মুন্ডা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মোমিনুর রহমান।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনধারা ধারণ করে আসছে। তাদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, আধুনিকতার প্রভাবে অনেক আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আজ হুমকির মুখে। তাই এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে নিজস্ব সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
এ সময় প্রান্তিক আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং তাদের ঐতিহ্যগত জ্ঞান ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ আদিবাসী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে ঐতিহ্যবাহী গান, নৃত্যসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সমৃদ্ধ ইতিহাস, জীবনধারা ও নিজস্ব সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়। প্রাণবন্ত এসব পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও আনন্দের সৃষ্টি করে।