ব্রেকিং নিউজ :

আশাশুনির খাল-বিল ও বাড়িঘর একটানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন।।পানি নিষ্কাশনের সংকটে চরম দুর্ভোগ, তলিয়ে গেছে বীজতলা ও মৎস্যঘের


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৪, ২০২৬, ৩:৪৫ অপরাহ্ন | ১৫৯
আশাশুনির খাল-বিল ও বাড়িঘর একটানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন।।পানি নিষ্কাশনের সংকটে চরম দুর্ভোগ, তলিয়ে গেছে বীজতলা ও মৎস্যঘের

আশাশুনি প্রতিনিধি:
টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। মরিচ্চাপ ও বেতনা নদী খনন করা হলেও কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় উপজেলার খাল-বিল,মাঠ-ঘাট, বসতবাড়ি,বীজতলা এবং বিভিন্ন মৎস্যঘেরে পানি জমে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। অনেক পরিবারকে হাঁটুসমান পানি ঠেলে ঘর থেকে বের হতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,নদীবেষ্টিত আশাশুনি উপজেলার মরিচ্চাপ ও বেতনা নদীতে খননকাজ হওয়ায় বর্তমানে জোয়ার-ভাটা স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে। তবে নদী খননের সুফল পুরোপুরি মিলছে না। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা,খাল-নালা ভরাট এবং অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ,বসতবাড়ি,দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে যেতে পারছে না। ফলে পুরো উপজেলায় জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামে কমবেশি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। খাল-বিল,কৃষিজমি, মাছের ঘের,মাঠ-ঘাট,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বসতবাড়ির আঙিনা পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে নিচু এলাকার অনেক ঘরে ইতোমধ্যে পানি প্রবেশ করেছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থী,চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষের চলাচলও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
এদিকে চলতি আমন মৌসুমের বীজতলা প্রস্তুতে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। অনেকের বীজতলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নতুন করে বীজতলা তৈরির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন মৎস্যঘেরেও পানি প্রবেশ করায় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ঘের মালিকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ,নদী খননের পাশাপাশি খাল-নালা পুনঃখনন এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন না করায় সামান্য টানা বৃষ্টিতেই পুরো উপজেলায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে নদী খননের প্রত্যাশিত সুফল থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগীরা দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল-নালা সংস্কার,পানি নিষ্কাশনের পথ উন্মুক্ত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।