ব্রেকিং নিউজ :

এক প্রকল্প দুই উদ্বোধন: মহানদী-কাশিমনগর সড়ক নিয়ে জনমনে প্রশ্ন


প্রকাশের সময় : জুলাই ১, ২০২৬, ১:৫৬ অপরাহ্ন | ১৫৯
এক প্রকল্প দুই উদ্বোধন: মহানদী-কাশিমনগর সড়ক নিয়ে জনমনে প্রশ্ন

কলারোয়া প্রতিদিন নিউজ ডেস্ক 

সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের মহানদী থেকে কাশিমনগর পাকা সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। একই উন্নয়ন প্রকল্প দুই দফা উদ্বোধনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ সড়ক প্রকল্পটি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ প্রথম উদ্বোধন করেন। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার মাধ্যমে প্রকল্পের উদ্বোধন হওয়ায় স্থানীয়দের প্রত্যাশা ছিল দ্রুত কাজ সম্পন্ন হয়ে জনদুর্ভোগ কমবে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, উদ্বোধনের পর বিভিন্ন জটিলতা, প্রভাব বিস্তার ও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রকল্পের কাজ দীর্ঘ সময় বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে বলে তারা জানান।

স্থানীয়দের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে কাজের গতি থেমে যায়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

এদিকে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহর উদ্বোধন করা একই মহানদী-কাশিমনগর সড়ক প্রকল্প পরবর্তীতে তার অনুপস্থিতিতে একই আসনের পরাজিত প্রার্থী, জেলা পরিষদের নিয়োগ প্রাপ্ত প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব পুনরায় উদ্বোধন করেন।

স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্য উদ্বোধন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প পুনরায় উদ্বোধনের প্রয়োজনীয়তা ও প্রশাসনিক ভিত্তি কী ছিল।

এলাকার সাধারণ মানুষের ভাষ্য, একজন সংসদ সদস্য নির্বাচনী এলাকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সর্বোচ্চ পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি হিসেবে উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন। তাই তার উদ্বোধন করা প্রকল্প পুনরায় একজন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসনিক ব্যক্তির মাধ্যমে উদ্বোধনের বিষয়টি তাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহর অবস্থান হলো, উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হওয়া এবং মানুষের দুর্ভোগ দূর হওয়াই প্রধান বিষয়। তিনি মনে করেন, কে উদ্বোধন করলেন সেটি ব্যক্তিগত কৃতিত্বের বিষয় নয়; জনগণের স্বার্থই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।
তবে তিনি এ বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন যে, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব, মর্যাদা ও জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান বজায় রাখা প্রয়োজন। তার মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্পের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হওয়া এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা থাকা জরুরি।

স্থানীয়রা বলছেন, উদ্বোধন নিয়ে বিতর্ক নয়, তাদের মূল প্রত্যাশা হলো দ্রুত সড়কের কাজ সম্পন্ন হওয়া। পাশাপাশি তারা চান, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধির মর্যাদা ও উন্নয়ন প্রকল্পের স্বচ্ছতা দুই বিষয়ই যথাযথভাবে গুরুত্ব পাক।