
নিজস্ব প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় পূর্বশত্রুতা ও হিংসাত্মক মনোভাব থেকে মৌমাছির ২৮০টি বাক্স পুকুরে ফেলে রানি মাছিসহ বিপুল পরিমাণ মৌমাছি নিধন করেছে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীরা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত মৌচাষি মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের আনুমানিক ২০ লাখ ৭০ হাজার টাকার অপূরণীয় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে কলারোয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলার হরিণনগর গ্রামের মৌচাষি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (৩১) মধু সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গত ৯ সেপ্টেম্বর কলারোয়া উপজেলার মীরডাঙ্গা গ্রামের ইমামুল ইসলামের আমবাগানে অস্থায়ী মৌ-খামার স্থাপন করেন। সেখানে তিনি ২৮০টি মৌ-বাক্স বসিয়ে নিবিড় পরিচর্যা ও পাহারা দিয়ে আসছিলেন।
গত ১২ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১:০০ টা থেকে ভোর ৬:০০ টার মধ্যে যেকোনো সময় অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমবাগানে থাকা মৌমাছির ২৮০টি বাক্স পাশের দুটি পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়। সকালে উঠে খামার মালিক দেখতে পান, পুকুরের পানিতে ডুবে রানি মাছিসহ সব মৌমাছি মারা গেছে এবং বাক্সগুলো সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মৌচাষি জাহাঙ্গীর আলম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “প্রতিটি ৬ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ২৮০টি বাক্সে থাকা মৌমাছির বাজারমূল্য প্রায় ১৮ লাখ ২০ হাজার টাকা। এছাড়া গত কয়েক দিনে খাদ্য ও পরিচর্যা বাবদ আরও প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছিল। শত্রুতা করে আমার এই সব শেষ করে দেওয়া হলো। আমি একবারে নিঃস্ব হয়ে রাস্তায় বসে গেছি।”
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় জমি মালিক ইমামুল ইসলাম, সাক্ষী মহিদুল ইসলাম ও ইমরান হোসেনসহ এলাকার উৎসুক মানুষ ঘটনাস্থলে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্থানীয়রা এ ধরনের জঘন্য কর্মকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে কলারোয়া থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত মৌচাষি ও স্থানীয় এলাকাবাসী।####
আপনার মতামত লিখুন :