ব্রেকিং নিউজ :


প্রকাশের সময় : জুন ১০, ২০২৬, ৬:৫২ পূর্বাহ্ন | ১৪৯

দেশের বিভিন্ন জেলার অবকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে জেলা পরিষদগুলোর জন্য ১৭৭ কোটি ৭৯ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা বিশেষ বরাদ্দ অনুমোদন করেছে সরকার।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ‘জেলা পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা’ খাত থেকে এ অর্থ এককালীন অবমুক্ত করেছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের জেলা পরিষদ শাখা থেকে গত (২ জুন) জারি করা এক সরকারি আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আদেশে বলা হয়েছে, ‘জেলা পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা’ খাতের অধীন ‘বিশেষ বরাদ্দ’ উপখাত থেকে দেশের জেলা পরিষদসমূহের অনুকূলে মোট ১৭৭ কোটি ৭৯ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা ছাড় করা হয়েছে।
এই অর্থ জেলা পরিষদগুলো তাদের নিজ নিজ এলাকায় উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় করতে পারবে।
সরকারি আদেশ অনুযায়ী, জেলার প্রয়োজন ও উন্নয়ন চাহিদা বিবেচনায় বিভিন্ন জেলা পরিষদের জন্য পৃথকভাবে বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে।
অধিকাংশ জেলা পরিষদকে ২ কোটি ১১ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং কিছু জেলা পরিষদকে ২ কোটি ৯১ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বরাদ্দ পাওয়া জেলার মধ্যে রয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, কক্সবাজার, নোয়াখালী, ফরিদপুর, গাজীপুর, নরসিংদী, যশোর, বগুড়া, পাবনা, দিনাজপুর, মাদারীপুর, মৌলভীবাজার, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, হবিগঞ্জ, ভোলা, পিরোজপুর, বরগুনা, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাটসহ দেশের ৬১টি জেলা পরিষদ।
স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বরাদ্দের মাধ্যমে জেলা পর্যায়ে সড়ক, সেতু-কালভার্ট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক স্থাপনা নির্মাণ, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং অন্যান্য স্থানীয় উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে গতি আসবে।
বিশেষ করে জেলা পরিষদের নিজস্ব উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এ অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় আইন (পিপিএ-২০০৬), সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর-২০২৫), জেলা পরিষদ এডিপি বরাদ্দ ব্যবহার নির্দেশিকা-২০২২ এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক বিধি-বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নির্ধারিত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন ছাড়া অন্য কোনো খাতে এই অর্থ ব্যয় করা যাবে না।
কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট বিল উত্তোলনকারী কর্তৃপক্ষকে দায়ভার বহন করতে হবে।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ খাত থেকে নতুন বরাদ্দ পাওয়ার পূর্বে বর্তমানে ছাড়কৃত অর্থের ব্যয় বিবরণী যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে।
এছাড়া অর্থ বিভাগ কর্তৃক জারি করা বিভিন্ন পরিপত্র এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্দেশনাও যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের মতে, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি আদেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাদ্দকৃত অর্থের আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত আর্থিক নিয়মনীতি ও প্রশাসনিক বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা তাদের দায়িত্ব হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে জেলা পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা খাতের আওতায় ইতোমধ্যে একাধিক কিস্তিতে অর্থ ছাড় করা হয়েছে।
অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন ও সম্মতির ভিত্তিতে এ বিশেষ বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে, যা জেলা পর্যায়ের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও বেগবান করবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জেলা পরিষদগুলো স্থানীয় পর্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান।
এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের চাহিদা অনুযায়ী ছোট ও মাঝারি আকারের উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।
ফলে বিশেষ বরাদ্দের এই অর্থ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, জনসেবার মানোন্নয়ন এবং স্থানীয় অর্থনীতির গতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদের প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বিভাগীয় কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা পাঠিয়েছে।
পাশাপাশি আদেশটি স্থানীয় সরকার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

(নিউজ ডেস্ক বাসস)