ব্রেকিং নিউজ :

সাতক্ষীরায় “ধর্মান্ধতা চলে এসেছে” ডিসির মন্তব্যে ক্ষোভ


প্রকাশের সময় : জুন ২৩, ২০২৬, ৫:৪৯ অপরাহ্ন | ১৬৯
সাতক্ষীরায় “ধর্মান্ধতা চলে এসেছে” ডিসির মন্তব্যে ক্ষোভ

 

ইসলামী ঐতিহ্য ও ধর্মপ্রাণ মানুষের জনপদকে নিয়ে এমন মন্তব্য কেন, প্রশ্ন সচেতন মহলের**

সাতক্ষীরা সদর প্রতিনিধি 

সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাউছার আজিজের “সাতক্ষীরায় ধর্মান্ধতা চলে এসেছে” মন্তব্যকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গন, সুশীল সমাজ ও সাধারণ নাগরিকদের অনেকেই এ বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেছেন, সাতক্ষীরার ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এমন মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।

সচেতন মহলের দাবি, সাতক্ষীরা একটি ঐতিহ্যবাহী জনপদ। এ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় অনুশাসন, সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা চলে আসছে। এখানকার অধিকাংশ মানুষ ধর্মভীরু ও ধর্মপ্রাণ হিসেবে পরিচিত। ইসলামী সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের ধারক এ জেলার মানুষ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।
তাদের প্রশ্ন, একটি পুরো জেলার মানুষকে ইঙ্গিত করে “ধর্মান্ধতা” শব্দ ব্যবহার করা কতটা যুক্তিসঙ্গত? একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন মন্তব্য প্রত্যাশিত নয় বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে।

স্থানীয়দের মতে, সাতক্ষীরার উন্নয়ন ও ক্রীড়াঙ্গনের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন ছিল। মাঠ সংকট, বাজেটের সীমাবদ্ধতা, অবকাঠামোগত সমস্যা ও ক্রীড়া উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে জেলার মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি বিষয় নিয়ে মন্তব্য করায় জনমনে কষ্ট ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

তারা আরও বলেন, ধর্ম পালন ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে সম্মান করা কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়। বরং নৈতিকতা, মানবিকতা ও সামাজিক শৃঙ্খলা তৈরিতে ধর্মীয় মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত কয়েকজন ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় নাগরিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা প্রশাসনের কাছে খেলাধুলার উন্নয়ন, মাঠ সংস্কার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রত্যাশা করি। কিন্তু পুরো জেলার মানুষের বিশ্বাস ও মূল্যবোধ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়—এমন বক্তব্য দুঃখজনক।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সাতক্ষীরার অনেক মানুষ এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাদের দাবি, সাতক্ষীরার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় অনুভূতিকে সম্মান রেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল বক্তব্য দেওয়া উচিত।

সচেতন মহলের অভিমত, জেলার বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়াই প্রশাসনের মূল দায়িত্ব। সাতক্ষীরার ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও মানুষের আবেগকে গুরুত্ব দিয়ে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।